মৌসুমি ফল কুলকে ঘিরে প্রতি বছরই আগ্রহ বাড়ে ভোক্তাদের। অন্য কোনো ফলে এর মতো প্রাকৃতিক ছাপ আছে কি না, তা জানা না গেলেও কুলকে এমন এক ফল বলা হয়, যা খেলে শরীরের ক্ষতির চেয়ে উপকারই বেশি। সাধারণত মাঘের মাঝামাঝি সময় থেকে বাজারে কুল আসতে শুরু করে।

টাটকা কুল পাওয়া যায় ফাল্গুন-চৈত্র পর্যন্ত। এরপর শুকনো কুল ও কুলের আচার সারা বছরই মিলতে থাকে। পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার বা ‘ডিটক্স’ রাখতে কুল বেশ কার্যকর।

পুষ্টিবিদ রিচা দোশি জানান, বসন্তকালে দেশজুড়ে সহজেই কুল পাওয়া যায়। নিয়মিত কুল খেলে শরীর সুস্থ থাকার পাশাপাশি ত্বকের যত্নেও উপকার মেলে। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বককে সজীব রাখতে সাহায্য করে।

কুলে প্রচুর ভিটামিন সি ও বিভিন্ন ধরনের ফেনোলিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। যেমন ক্যাফিক অ্যাসিড ও ফেরিউলিক অ্যাসিড। এসব উপাদান শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিক্যাল দূর করে কোষের ক্ষতি কমায় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

শরীর ডিটক্সের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভারের জন্যও কুল উপকারী। এতে থাকা ট্রিটারপেনিক অ্যাসিড ও বেরবেরিন লিভারকে দূষণমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। কুলের রসে থাকা সাইটোপ্রোটেকটিভ উপাদান লিভারের ওপর সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা অ্যালকোহলজনিত ক্ষতি থেকেও রক্ষা করতে পারে। পাশাপাশি লিভারের এনজাইমের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে কোষের ক্ষতি কমায়। বিশেষ করে ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় কুল উপকারী বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

কিডনির ক্ষেত্রেও কুলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। রিচা দোশির মতে, কুলের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। এর ডাইইউরেটিক বৈশিষ্ট্য শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়, ফলে কিডনির কাজ সহজ হয়।

এ ছাড়া কুল রক্ত পরিশ্রুত করতেও সহায়ক। এতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড, স্যাপোনিন ও পলিস্যাকারাইডের মতো উপাদান রক্ত থেকে ক্ষতিকর টক্সিন দূর করতে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে, যার ফলে শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমে।

তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের শুকনো কুল খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, কারণ এতে চিনির মাত্রা বেশি থাকে। অতিরিক্ত কুল খেলে পেটফাঁপা বা হজমের সমস্যা হতে পারে। কুল কাঁচা বা শুকনো—দুভাবেই খাওয়া যায়, তবে দিনে ৬-৭টির বেশি না খাওয়াই ভালো বলে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।