কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স খুলে তিন মাস ২৭ দিনে সংগৃহীত হয়েছে ৩৫ বস্তা টাকা। শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে এসব টাকার গণনা। টাকা ছাড়াও দানবাক্সগুলোতে পাওয়া গেছে স্বর্ণ, রুপা এবং বিভিন্ন দেশের মুদ্রা।

এর আগে চলতি বছরের ৩০ আগস্ট চার মাস ১৭ দিনে দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল ৩২ বস্তা টাকা। সেদিন গণনা শেষে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। পাশাপাশি মিলেছিল বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা।

মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার সকাল পৌনে ৭টায় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা এবং পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন ছিলেন।

দানবাক্স থেকে সংগৃহীত টাকা ৩৫টি বস্তায় ভরে মসজিদের দোতলায় নেওয়া হয়। সেখানে মেঝেতে টাকা ঢেলে মাদ্রাসার প্রায় ২৫০ জন ছাত্র, ১০ জন শিক্ষক ও রূপালী ব্যাংকের ৭০ জন কর্মকর্তা কড়া নিরাপত্তার মধ্যে গণনার কাজ করছেন।

মসজিদ কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, দিনভর গণনা শেষে শনিবার সন্ধ্যায় মোট টাকার পরিমাণ জানা যাবে।

জনশ্রুতি অনুযায়ী, প্রায় ২৫০ বছর আগে পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক সাধক খরস্রোতা নরসুন্দা নদীর মাঝখানে মাদুর পেতে ভেসে এসে বর্তমান মসজিদ এলাকার হারুয়া নামক স্থানে থামেন। তাকে ঘিরে সেখানে ভক্তদের সমাগম ঘটে। তার মৃত্যুর পর সমাধির পাশে গড়ে ওঠে এই মসজিদ, যা কালক্রমে ‘পাগলা মসজিদ’ নামে পরিচিতি লাভ করে।