ভোলার দুলারহাট থানার ঘোষেরহাট এলাকা থেকে ছেড়ে আসা এমভি জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চের সঙ্গে অপর একটি লঞ্চ অ্যাডভেঞ্চার–৯-এর ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ৮ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের এসপি সৈয়দ মুশফিকুর রহমান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক (ট্রাফিক) বাবু লাল বৈদ্য জানান, নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও দুইজন পুরুষ রয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের বরাতে জানা যায়, ঘন কুয়াশার কারণে অ্যাডভেঞ্চার–৯ লঞ্চটি এমভি জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চের মাঝ বরাবর সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চটির দ্বিতীয় তলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘর্ষের সময় লঞ্চের পাশের অংশে থাকা অনেক যাত্রী নদীতে পড়ে যান।
নিহত নারী যাত্রী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। অপর দুই পুরুষ যাত্রী ঘটনাস্থলে অথবা গুরুতর আহত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। উদ্ধার কাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চটি মাঝনদীতে ডুবো অবস্থায় ভাসতে থাকলে ভোলা থেকে ঢাকাগামী এমভি কর্ণফুলী–৯ লঞ্চ দ্রুত এগিয়ে এসে অনেক যাত্রীকে উদ্ধার করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
অন্যদিকে নিহতদের মরদেহ ও গুরুতর আহত যাত্রীদের নিয়ে জাকির সম্রাট–৩ লঞ্চটি চিকিৎসার জন্য চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। স্থানীয় জেলে ও নৌযান শ্রমিকদের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নৌ-পুলিশ ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
