দিনের আলোতে বেশি সময় কাটানো শুধু শারীরিক সুস্থতার জন্য নয়, মানসিক স্বাস্থ্যে ও মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সূর্যের আলোয় সময় কাটালে মানুষের মস্তিষ্কের নানা কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
ব্রিটেনে পরিচালিত এই গবেষণায় ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানান, দিনের আলোয় দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে মস্তিষ্কের একাধিক অংশে সুফল পাওয়া যায়। সূর্যের আলো মানুষের মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় কী ধরনের প্রভাব ফেলে—তা বিশ্লেষণ করে এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ গবেষণা বলে দাবি করেছেন তারা।
গবেষণায় অংশ নেওয়া ৫৮ জন ব্যক্তির ওপর পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, দিনের আলোয় বেশি সময় কাটালে দিনের বেলায় ঘুমঘুম ভাব ও আলস্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। গবেষণাকালে অংশগ্রহণকারীদের কব্জিতে বিশেষ ট্র্যাকার পরানো হয়, যার মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা বায়োলজিক্যাল ক্লকের ওপর সূর্যের আলোর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়।
গবেষণার ফলাফলে আরও জানা যায়, সূর্যের আলোয় নিয়মিত থাকার ফলে মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা উন্নত হয় এবং উজ্জ্বল আলোতে প্রতিক্রিয়া জানানোর গতি ৭ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
এ গবেষণায় সকালবেলা দ্রুত ঘুম থেকে ওঠেন এমন ব্যক্তি এবং যারা রাত জেগে দেরিতে ঘুমান—এই দুই ধরনের মানুষের মধ্যেও তুলনা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, যারা তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যান ও ভোরে ওঠেন, তারা সকালের আলোতে মানসিকভাবে বেশি সতর্ক থাকেন এবং সন্ধ্যার দিকে তুলনামূলক দ্রুত ক্লান্ত বা ঘুমঘুম ভাব অনুভব করেন।
গবেষকরা বলছেন, এই ফলাফল বাস্তব জীবনে সূর্যের আলোয় সময় কাটানোর গুরুত্ব স্পষ্ট করে তুলে ধরে। বিশেষ করে যাদের ঘুমের রুটিন নিয়মিত এবং যারা প্রতিদিন দিনের আলোয় কিছুটা সময় কাটান, তাদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ার সুফল বেশি দেখা যায়।
তাদের মতে, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত হলে ব্যক্তির সামগ্রিক স্বাস্থ্য যেমন ভালো থাকে, তেমনি কর্মক্ষেত্রের পারফরম্যান্সও বাড়তে পারে। গবেষকরা আরও জানান, দিনের যে কোনো সময় সূর্যের আলোয় হাঁটাহাঁটি করা বা বাইরে অবস্থান করলেই এই উপকার পাওয়া সম্ভব—এর জন্য নির্দিষ্ট সময় বেছে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
গবেষকদের ধারণা, চোখের পেছনে থাকা আলো-সংবেদনশীল টিস্যু সক্রিয় হওয়ার কারণেই সূর্যের আলো মস্তিষ্কে এমন ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এই গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী ‘কমিউনিকেশনস সাইকোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
