নতুন বছর মানেই শুধু নতুন লক্ষ্য ঠিক করা নয়, বরং পুরোনো কিছু ক্ষতিকর অভ্যাসকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও। কারণ আমাদের দৈনন্দিন অনেক অভ্যাস অজান্তেই সময়, শক্তি, আত্মসম্মান ও সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দেয়।

২০২৬ সালে যদি নিজেকে আরও স্থির, পরিণত, সফল ও পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে দেখতে চান, তাহলে কিছু বদভ্যাস এখনই ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

উদ্দেশ্যহীন স্ক্রলিং থেকে বেরিয়ে আসুন
গত এক বছরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপনি প্রতিদিন কতটা সময় কাটিয়েছেন, তা একটু হিসাব করলেই বোঝা যাবে অবসর সময়ের বড় অংশ কীভাবে হারিয়ে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া অকারণে স্ক্রলিং বন্ধ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও কাজে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

রিলাক্সেশনের নামে রাত জাগা বাদ দিন
অনেকে মনে করেন, সিনেমা বা সিরিজ দেখে ভোরে ঘুমাতে গেলে মানসিক চাপ কমে। অথচ দীর্ঘ ব্যস্ত দিনের পর শরীর ও মনের প্রকৃত বিশ্রামের জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই।

‘স্ট্রেস-স্ন্যাকিং’ অভ্যাস ত্যাগ করুন
মানসিক চাপ কমাতে অস্বাস্থ্যকর, মুখরোচক খাবার খাওয়ার প্রবণতাকে বলা হয় স্ট্রেস-স্ন্যাকিং। এতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও দীর্ঘমেয়াদে এটি শারীরিক ও মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

ব্যস্ততার অজুহাতে বই না পড়া বন্ধ করুন
আসলে সমস্যা ব্যস্ততা নয়, সমস্যা হলো বই পড়াকে অগ্রাধিকার না দেওয়া। নতুন বছরে প্রতিদিন অন্তত কিছু পৃষ্ঠা হলেও পড়ার অভ্যাস শুরু করুন। ধীরে ধীরে বই হয়ে উঠবে আপনার নিত্যসঙ্গী।

অভিযোগ কমান, সমাধানে মন দিন
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত অভিযোগ করা মানুষ তুলনামূলক কম উৎপাদনশীল হয়। নতুন বছরে অভিযোগ কমিয়ে বরং সমস্যার সমাধানে আপনি কী করতে পারেন, সে দিকে মনোযোগ দিন।

অতীতের বোঝা নামিয়ে রাখুন
অতীতের কষ্ট, ক্ষোভ বা অপূর্ণতা আঁকড়ে ধরে রাখলে সামনে এগোনো কঠিন হয়ে পড়ে। নিজেকে ও অন্যকে ক্ষমা করে মানসিকভাবে হালকা হওয়ার চেষ্টা করুন।

নিজেকে দেওয়া কথা ভাঙার অভ্যাস ছাড়ুন
নিজের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি ভাঙা মানে নিজের আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। ছোট প্রতিজ্ঞা দিয়েই শুরু করুন, কিন্তু তা পালন করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

অন্যের কথা ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া বন্ধ করুন
কে আপনার সম্পর্কে কী বলল বা ভাবল, তা আপনার মূল্য নির্ধারণ করে না। বরং এতে সেই ব্যক্তির মানসিকতারই প্রকাশ ঘটে। তাই অপ্রয়োজনীয় কথায় মন খারাপ না করে নিজের পথেই এগিয়ে যান।

নতুন বছরকে সত্যিকারের অর্থবহ করতে চাইলে এসব অভ্যাস থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসাই হতে পারে নিজের জন্য নেওয়া সবচেয়ে বড় উপহার।