আজকাল নারী–পুরুষ নির্বিশেষে অনেকেই চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষ করে মাথার সামনের দিক থেকে বেশি চুল পড়লে টাক পড়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক। তবে এর চেয়ে বেশি চুল ঝরলে এবং পড়ে যাওয়া জায়গায় নতুন চুল না গজালে তা অবশ্যই চিন্তার কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই চুল পড়ার অন্যতম কারণ হলো ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি। এই ভিটামিন মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে এবং চুলের গোড়া মজবুত রাখে। অথচ চুলের যত্নে ভিটামিন এ, সি, ডি বা ই নিয়ে যতটা আলোচনা হয়, ভিটামিন বি১২ নিয়ে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। চুলের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এই ভিটামিনও অত্যন্ত জরুরি।

কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মরত ৫৭ শতাংশের বেশি মানুষ ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতিতে ভুগছেন। এই ভিটামিনের অভাবে চুল পড়ার পাশাপাশি শরীরে ঝিমুনি, মাথা ঘোরা, হাত-পা ঝিনঝিন করা বা অসাড় হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া ও ডগা ফাটার সমস্যাও বাড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর না করে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ভিটামিন বি১২-সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি।

ভিটামিন বি১২-এর ভালো উৎস হিসেবে টকদই বা ইয়োগার্টের কথা উল্লেখ করেছেন তারা। এগুলো প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ হওয়ায় হজমশক্তি বাড়ায় এবং শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। প্রাণিজ খাবারে সাধারণত ভিটামিন বি১২-এর পরিমাণ বেশি থাকে। ডিম, মাশরুম, বিভিন্ন ধরনের মাংস, কলিজা ও সামুদ্রিক মাছ এই ভিটামিনের উৎকৃষ্ট উৎস। দুধেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভিটামিন বি১২ রয়েছে।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রায় ২.৪ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন বি১২ প্রয়োজন, যার প্রায় অর্ধেক এক কাপ দুধ থেকেই পাওয়া সম্ভব। এ ছাড়া ওটস, কিনোয়া, ডালিয়াসহ বিভিন্ন দানাশস্যেও এই ভিটামিন পাওয়া যায়। নিয়মিত এসব খাবার গ্রহণ করলে শরীরে ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।