শীতে পায়ে ও জুতায় দুর্গন্ধ।

শীতের আগমনে মোটা মোজা আর বুট জুতো পরা শুরু হয়েছে, কিন্তু এর সাথে অনেকের জন্য আসে এক অস্বস্তিকর সমস্যা – পায়ের উৎকট দুর্গন্ধ। অনেকে মনে করেন গরমে পা ঘামার কারণে দুর্গন্ধ বেশি হয়, কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালেই এ সমস্যা আরও তীব্র হয়। কারণ, পা ঢেকে রাখার ফলে ঘাম আটকে যায়, ব্যাকটেরিয়া বাড়ে এবং দুর্গন্ধ ছড়ায়।

চর্ম ও পায়ের রোগ বিশেষজ্ঞরা জানান, পায়ের ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া (যেমন কিটোকক্কাস) ঘামের সাথে মিশে সালফার যৌগ তৈরি করে, যা পচা ডিমের মতো গন্ধ সৃষ্টি করে। শীতে সিনথেটিক মোজা বা কৃত্রিম চামড়ার জুতো পরলে বাতাস চলাচল কমে, ঘাম শুকাতে পারে না – ফলে সমস্যা বাড়ে।

আরও পড়ুন –শীতের রাতে ব্যাডমিন্টন কেন খেলবেন

ভালো খবর হলো, কিছু সহজ ঘরোয়া উপায়ে এ দুর্গন্ধ অনায়াসে কমানো যায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে কয়েকটি অব্যর্থ টিপস:

১. সুতির বা ময়শ্চার-উইকিং মোজা ব্যবহার করুন: নাইলন বা পলিস্টারের মোজা এড়িয়ে চলুন। সুতির মোজা ঘাম শোষণ করে এবং বাতাস চলাচল করতে দেয়।

২. পা নিয়মিত ধুয়ে শুকিয়ে নিন: প্রতিদিন অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান দিয়ে পা ভালো করে ধুয়ে, আঙ্গুলের ফাঁকে বিশেষ যত্ন নিয়ে পুরোপুরি শুকিয়ে নিন।

৩. ঘরোয়া সোক:

  • চায়ের পানিতে (ফুটানো চা পাতা মিশিয়ে) ২০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন – চা জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে।
  • ভিনেগার মিশ্রিত গরম পানিতে ১৫ মিনিট পা চুবান – এতে ব্যাকটেরিয়া মরে যায়।
  • বেকিং সোডা বা এপসম সল্ট মিশিয়ে সোক করলেও উপকার পাবেন।

৪. জুতোর যত্ন: জুতো খুলে রোদে বা বাতাসে শুকিয়ে নিন। ভিতরে বেকিং সোডা বা টি-ব্যাগ রেখে দুর্গন্ধ শোষণ করান। একই জুতো প্রতিদিন না পরে অল্টারনেট করুন।

৫. পাউডার ব্যবহার: পায়ে এবং জুতোর ভিতরে ট্যালকম পাউডার বা অ্যান্টিফাঙ্গাল পাউডার ছিটিয়ে নিন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব নিয়ম মেনে চললে শীতেও পা থাকবে সতেজ ও গন্ধমুক্ত। তবে সমস্যা তীব্র হলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন, কারণ এটি কখনো কখনো ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা অন্য রোগের লক্ষণও হতে পারে।