ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে ইরান। দেশটিতে তীব্র মুদ্রা দরপতন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ চলছে। দক্ষিণ ইরানের ফারস প্রদেশের ফাসা শহরে বিক্ষোভকারীরা একটি সরকারি ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বুধবার একদল বিক্ষোভকারী গভর্নরেট ভবনের ফটক ভাঙার চেষ্টা করে। সম্প্রচারিত ভিডিওতে ভবনের গেট ভাঙতে আন্দোলনকারীদের তৎপরতা দেখা যায়। নিরাপত্তা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ঘটনাটির কথিত নেতৃত্বে থাকা ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে আটক করা হয়।

আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানায়, সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য আহত হন এবং চারজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত রোববার রাজধানী তেহরানে দোকানদারদের বিক্ষোভের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূচনা হয়। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্ষোভ দ্রুত দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার তেহরানের পাশাপাশি ইসফাহান, ইয়াজদ ও জানজান শহরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভে যোগ দেন।

বুধবার তেহরানে এক ব্যবসায়িক সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভে বিদেশি প্রভাবের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্য আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

এদিকে ইরানের প্রসিকিউটর জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি-আজাদ জানান, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আইনসম্মত হলেও অস্থিতিশীলতা বা সহিংসতা সৃষ্টি হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানি রিয়ালের মূল্য দ্রুত কমে গেছে। বিক্ষোভ শুরুর সময় এক ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দাম দাঁড়ায় প্রায় ১৪ লাখ ২০ হাজার, যেখানে এক বছর আগে এই হার ছিল প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার।

দীর্ঘদিনের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং জাতিসংঘের পুনর্বহাল করা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ইরানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলেছে। বর্তমানে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে।

কুইন্সি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি মন্তব্য করেছেন, অর্থনৈতিক দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক অসন্তোষে রূপ নিতে পারে।