শরীর সুস্থ ও সতেজ রাখতে শুধু পর্যাপ্ত পানি পান করলেই যথেষ্ট নয়, বরং দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এমন খাবার রাখা জরুরি, যা শরীরকে স্বাভাবিকভাবেই হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।

এ ক্ষেত্রে শিম হতে পারে একটি কার্যকর ও সহজলভ্য সবজি। সাধারণত শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত হলেও, শিমের পুষ্টিগুণ সারা বছরই শরীরের জন্য উপকারী।

শিমে প্রায় ৮৯ থেকে ৯১ শতাংশ পর্যন্ত পানি থাকে। পাশাপাশি এতে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ উপাদান ও খাদ্যআঁশ, যা শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে এবং ত্বকসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। নিয়মিত শিম খেলে শরীর প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা পায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে।

পানিশূন্যতা দূর করতে কার্যকর
শিমে থাকা উচ্চমাত্রার পানি শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে সহায়ক। যারা কম পানি পান করেন বা বেশি শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাদের জন্য শিম একটি উপকারী সবজি হিসেবে কাজ করে।

ইলেকট্রোলাইটের ভালো উৎস
শুধু পানি নয়, শরীর হাইড্রেটেড রাখতে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যও জরুরি। শিমে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, ফলে ক্লান্তি ও দুর্বলতার ঝুঁকি কমে।

হজমে সহায়ক, শরীর থাকে সতেজ
শিমে থাকা আঁশ হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে। ভালো হজমের ফলে শরীর পুষ্টি ও পানি সঠিকভাবে শোষণ করতে পারে, যা শরীরকে হালকা ও সতেজ রাখে।

ত্বক ও চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখে
শরীর পর্যাপ্ত হাইড্রেটেড থাকলে তার প্রভাব পড়ে ত্বক ও চুলে। শিমে থাকা পানি ও ভিটামিন ত্বকের শুষ্কতা রোধ করে এবং চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।

কম ক্যালরিতে বেশি পুষ্টি
শিম কম ক্যালরিযুক্ত হলেও পুষ্টিগুণে ভরপুর। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইচ্ছুকদের জন্য এটি একটি আদর্শ সবজি, যা অতিরিক্ত ক্যালরি যোগ না করেই শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে।

খাওয়ার পদ্ধতি
শিম ভাজি, ভুনা, তরকারি কিংবা স্যুপ—বিভিন্নভাবে রান্না করা যায়। তবে কম তেল ও কম মসলা ব্যবহার করে হালকা রান্না করাই সবচেয়ে উপকারী, এতে শিমের পানির অংশ ও পুষ্টিগুণ ভালোভাবে বজায় থাকে।

সব মিলিয়ে, শরীর হাইড্রেটেড রাখতে পানি পান করার পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় শিম রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত শিম খেলে শরীর থাকবে আর্দ্র, সতেজ ও সুস্থ।