মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার (১৬) অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৯ নভেম্বর নানাবাড়িতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের হলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।
উল্টো মামলা তুলে নেওয়ার জন্য সুমাইয়ার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি মিমাংসার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুমাইয়া নানাবাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি হাইস্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন। স্কুলে যাতায়াতের পথে তার সঙ্গে স্থানীয় যুবক রিফাত উকিলের পরিচয় হয় এবং ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রিফাত তাকে নিজের মায়ের সঙ্গে পরিচয়ও করিয়ে দেন। কিন্তু বিয়ের প্রস্তাব দিলে রিফাত তা অস্বীকার করেন। এ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মধ্যস্থতায় ঝামেলা শুরু হয়।
গত ১৭ নভেম্বর সুমাইয়ার দূরসম্পর্কের মামা আবুল খায়ের চোকদারসহ রিফাত ও অন্যরা নানাবাড়িতে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং উৎখাতের হুমকি দেন। পরদিন সুমাইয়া রিফাতের মায়ের কাছে গিয়ে বিয়ের কথা ও হুমকির বিচার চান, কিন্তু আশ্বাস পেয়ে ফিরে আসেন।
১৯ নভেম্বর আবারও রিফাতসহ তার লোকজন এসে গালিগালাজ ও হুমকি দেন। এরপর খায়ের চোকদারের বাড়ির উঠানে সুমাইয়া ও তার পরিবারকে ডেকে অপমান করা হয়। রিফাতকে দিয়ে সুমাইয়াকে ‘মা’ ডাকানো হয় বলে অভিযোগ।
এই চরম অপমান সহ্য করতে না পেরে সুমাইয়া ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেন। বাড়ির লোকজন দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।
সুমাইয়ার মামি শুভতারা বলেন, “প্রথমে খায়ের মামাসহ রিফাতের লোকজন এসে গালিগালাজ ও হুমকি দেয়। আত্মহত্যার দিন তারা আবার এসে উঠানে ডেকে অপমান করে। রিফাতকে দিয়ে ‘মা’ ডাকানোর পরই সুমাইয়া ঘরে গিয়ে আত্মহত্যা করে।”
সুমাইয়ার আরেক মামা মামুন বলেন, “পুলিশ আমাদের মিমাংসা করতে বলছে। রিফাতের পরিবারও হুমকি দিচ্ছে। মামলা না তুললে মেরে ফেলার ভয় দেখানো হচ্ছে।”
অভিযুক্ত আবুল হোসেন বলেন, “আমি ঘটনার দিন বাড়িতে ছিলাম না। মামলায় আমার নাম নেই। শুধু শুধু দোষারোপ করা হচ্ছে।”
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলায় নামধারী ও অজ্ঞাত আসামি রয়েছে। তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
এ ঘটনায় সুমাইয়ার সহপাঠী ও স্থানীয়রা বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন। তারা বলছেন, সুমাইয়া ছিলেন শান্ত ও মেধাবী ছাত্রী। অপমানের মাধ্যমে তাকে আত্মহত্যায় বাধ্য করা হয়েছে।
