বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা পুরুষদের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। এর পেছনে চুলে পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব, শরীরের হরমোনজনিত পরিবর্তনসহ নানা কারণ কাজ করে।
চুল পড়া অনেকের কাছেই মানসিকভাবে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে অনেকে মনে করেন, মাথা ন্যাড়া করে ফেললে সমস্যার সমাধান হবে। আবার কারও বিশ্বাস, ন্যাড়া করলে পরে যে নতুন চুল গজাবে, তা আগের চেয়ে বেশি ঘন হবে। তবে বাস্তবতা হলো— এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
সম্প্রতি পাবমেড সেন্ট্রালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ন্যাড়া হওয়ার সঙ্গে চুল ঘন হওয়ার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। ন্যাড়া করার পর নতুন চুল যখন ওঠে, তখন তা ছোট থাকায় দেখতে এবং স্পর্শে ঘন মনে হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে চুল বড় হলে দেখা যায়, চুলের ঘনত্ব আগের মতোই রয়ে গেছে।
তবে গবেষণায় একটি ইতিবাচক দিকের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যাদের চুল পড়ার প্রবণতা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে লম্বা চুল তুলনামূলকভাবে সহজে উঠে যায়। কিন্তু ন্যাড়া করার পর নতুন করে গজানো ছোট চুল কিছুটা সময় টিকে থাকে এবং সহজে পড়ে না।
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, চুল পড়ার মূল সমস্যা শুরু হয় মাথার ত্বকের নিচে থাকা চুলের গোড়া শুকিয়ে গেলে। একবার গোড়া সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে সেখান থেকে আর নতুন চুল গজানোর সম্ভাবনা থাকে না। ন্যাড়া করলে অনেকেই মনে করেন, শুকিয়ে যাওয়া গোড়া থেকে আবার চুল উঠবে, কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। কারণ ওই স্থানে চুল গজানোর মতো কোনো কার্যকর উপাদান আর অবশিষ্ট থাকে না।

