সুগন্ধির কাজ শুধু দুর্গন্ধ ঢেকে দেওয়ায় সীমাবদ্ধ নয়। ব্যক্তিত্ব, স্মৃতি, উপস্থিতি ও পরিচয়ের সঙ্গেও গন্ধের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তবে সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে দামি পারফিউমও নিজের আসল ঘ্রাণ প্রকাশ করতে পারে না।

অনেক সময় অজান্তেই কিছু ভুল হয়ে যায়, যার ফলে সুগন্ধি দ্রুত মিলিয়ে যায়। মূলত পারফিউম ব্যবহারের সময়েই এসব ভুল বেশি ঘটে।

কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে আপনার প্রিয় ঘ্রাণ আরও সুন্দরভাবে ফুটে উঠবে। সঠিক জায়গায় ও সঠিক মাত্রায় পারফিউম ব্যবহার করলেই আপনি অন্যদের মনে আলাদা ছাপ ফেলতে পারবেন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক—পারফিউম ব্যবহারে সাধারণ ভুলগুলো কী এবং সেগুলো কীভাবে এড়াবেন।

১. কব্জি ঘষে নেওয়া
পারফিউম স্প্রে করার পর অনেকেই দুই কব্জি ঘষে নেন, যা সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি। এতে ত্বকে তাপ তৈরি হয় এবং প্রাকৃতিক এনজাইমের কারণে সুগন্ধির ঘ্রাণ বদলে যেতে পারে। কব্জি বা ত্বকে স্প্রে করে তা নিজে থেকেই শুকাতে দিন। এতে গন্ধ ধীরে ধীরে প্রকাশ পায় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।

২. নাড়ির স্পন্দনের জায়গা উপেক্ষা করা
যত্রতত্র পারফিউম ছিটিয়ে দেওয়ার বদলে শরীরের পালস পয়েন্টে ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর। ঘাড়ের পাশ, কব্জি, কানের পেছন ও বক্ষবিভাজিকার মতো জায়গায় নাড়ির স্পন্দন বেশি থাকে, ফলে সেখান থেকে ঘ্রাণ ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৫ ইঞ্চি দূর থেকে দুই-তিনবার স্প্রে করলেই যথেষ্ট। চাইলে চুলে হালকা করে স্প্রে করা যেতে পারে।

৩. শুষ্ক ত্বকে পারফিউম ব্যবহার
শুষ্ক ত্বকে পারফিউমের ঘ্রাণ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। ত্বকে আর্দ্রতা না থাকলে সুগন্ধি ধরে রাখার মতো স্তর তৈরি হয় না। তাই পারফিউম ব্যবহারের আগে হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। বিশেষ করে গোসলের পর, যখন ত্বক পরিষ্কার ও সামান্য সিক্ত থাকে, তখন পারফিউম সবচেয়ে ভালো কাজ করে।

এছাড়া একই পারফিউম সবার ত্বকে একরকম ঘ্রাণ ছড়ায় না। শরীরের নিজস্ব রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের কারণে গন্ধে পার্থক্য আসতে পারে। তাই নতুন পারফিউম কেনার আগে ত্বকে স্প্রে করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে দেখাই ভালো।

৪. অতিরিক্ত পারফিউম ব্যবহার
বেশি স্প্রে করলে গন্ধ ভালো হবে—এমন ধারণা ভুল। অতিরিক্ত সুগন্ধি অনেক সময় বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং আশপাশের মানুষ অস্বস্তি বোধ করতে পারেন। পরিমিত ব্যবহারই সবচেয়ে কার্যকর। হালকা কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী ঘ্রাণের জন্য ২–৩টি স্প্রেই যথেষ্ট।