ছোট শিশুদের ঘুমের সময় মুখ থেকে লালা পড়া একটি স্বাভাবিক বিষয়। চিকিৎসকদের মতে, বয়স কম থাকায় তাদের মুখের পেশি ও স্নায়ু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না থাকায় এমনটা হয়ে থাকে। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে নিয়মিত লালা ঝরা হলে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সময় লালা ঝরার ঘটনা দেখা দিলে তা কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এমনকি এটি স্নায়ুজনিত রোগের লক্ষণও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীদের মধ্যেও এই সমস্যাটি দেখা যায় বলে জানান চিকিৎসকরা।

যেসব কারণে ঘুমের মধ্যে লালা ঝরতে পারে

চিকিৎসকদের মতে, নাক বা মুখে অ্যালার্জি থাকলে অতিরিক্ত লালা তৈরি হতে পারে। আবার ঘুমের সমস্যা বা গভীর ঘুমের সময় মুখের পেশি শিথিল হয়ে গেলে লালা বাইরে বেরিয়ে আসে। সাইনাসের জটিলতা থাকলেও ঘুমের সময় মুখ থেকে লালা পড়তে পারে।

এছাড়া অতিরিক্ত গ্যাস বা পেটে অ্যাসিডিটির সমস্যায় লালা নিঃসরণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। মুখে কোনো সংক্রমণ হলেও অজান্তে লালা ঝরতে পারে। স্নায়ুবিক রোগ যেমন সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রেও এটি একটি সাধারণ লক্ষণ।

করণীয় ও প্রতিকার

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের সময় লালা পড়া কমাতে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। বিশেষ করে মসলাদার খাবার কম খেলে অন্ত্রের সমস্যা কমে এবং পরোক্ষভাবে লালা ঝরার প্রবণতাও হ্রাস পায়।

এছাড়া ঘুমানোর সময় মাথা কিছুটা উঁচু বালিশে রাখলে সাময়িক স্বস্তি মিলতে পারে। পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম শরীরের স্বাভাবিক চক্র বজায় রাখতে সাহায্য করে, ফলে এই সমস্যা কমে যায়। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দাঁত ব্রাশ করে মুখ পরিষ্কার রাখার পরামর্শও দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

তবে ঘুমের মধ্যে যদি অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত লালা ঝরতে থাকে, সে ক্ষেত্রে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রয়োজন হলে বিশেষ চিকিৎসা বা যন্ত্রের মাধ্যমেও এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে জানান তারা।