টক-মিষ্টি স্বাদের পেয়ারা শুধু সুস্বাদুই নয়, পুষ্টিগুণেও ভরপুর। কাঁচা খাওয়া থেকে শুরু করে জুস, স্মুদি কিংবা জ্যাম—সবভাবেই জনপ্রিয় এই ফল। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো ও হজমে সহায়তার জন্য পেয়ারাকে অনেকেই ‘সুপারফ্রুট’ বলে থাকেন। তবে পেয়ারা খাওয়ার সময় অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—এটি কি খোসাসহ খাওয়া ভালো, নাকি খোসা ছাড়িয়ে?
ভারতীয় পুষ্টিবিদ দীপসিখা জৈনের মতে, পেয়ারার খোসা খাওয়া একদিকে উপকারী হলেও সবার জন্য তা সমানভাবে নিরাপদ নয়। খোসাসহ পেয়ারা খেলে শরীর অতিরিক্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পায়, যেমন পটাশিয়াম, জিঙ্ক ও ভিটামিন সি। এসব উপাদান ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। যাদের কোনো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা নেই, তারা ভালোভাবে ধুয়ে খোসাসহ পেয়ারা খেতে পারেন।
তবে ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরলে ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে খোসাসহ পেয়ারা খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, পেয়ারার খোসা রক্তে শর্করার মাত্রা ও লিপিড প্রোফাইলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যাদের রক্তে সুগার বা কোলেস্টেরল বেশি, তাদের জন্য খোসা ছাড়ানো পেয়ারা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
পেয়ারা এমনিতেই ভিটামিন সি’র চমৎকার উৎস। একটি পেয়ারা দৈনিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি’র বড় অংশ পূরণ করতে সক্ষম, যা সংক্রমণের ঝুঁকি কমায় এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। এতে থাকা আঁশ বা ফাইবার হজমে সহায়তা করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। বিশেষ করে খোসা ছাড়া পেয়ারা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশি উপযোগী।
এ ছাড়া পেয়ারা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, লাইকোপিন ও ভিটামিন এ’তে সমৃদ্ধ, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং বার্ধক্যের প্রভাব কমাতে সহায়তা করে। পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের উপস্থিতির কারণে এটি হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পেয়ারা খোসাসহ নাকি খোসা ছাড়া খাবেন—তা নির্ভর করে আপনার শারীরিক অবস্থার ওপর। সুস্থ ব্যক্তিরা পরিষ্কারভাবে ধুয়ে খোসাসহ পেয়ারা খেতে পারেন। তবে ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে খোসা ছাড়িয়ে পেয়ারা খাওয়াই হবে সবচেয়ে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত।
