পৌষের কনকনে শীতে যখন চারপাশের মানুষ গরম কফি বা কুসুম গরম পানিতে চুমুক দিচ্ছেন, তখন অনেকের মনেই দেখা দেয় এক গ্লাস ঠান্ডা পানির আকাঙ্ক্ষা। বাস্তবেও লক্ষ্য করা যায়, শীতকালে তৃষ্ণা পেলে শুধু হালকা গরম পানি খেলেই অনেকের তেষ্টা পুরোপুরি মেটে না।

স্বাভাবিক তাপমাত্রার বা সামান্য ঠান্ডা পানি পান করলেই বেশি প্রশান্তি অনুভূত হয়। প্রশ্ন হলো—এটি কি কেবল মানসিক অনুভূতি, নাকি এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা?

শীতেও ঠান্ডা পানি কেন বেশি তৃপ্তিদায়ক

বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃষ্ণা নিবারণ শুধু শরীরে কতটা পানি ঢুকল, তার ওপর নির্ভর করে না। মুখ ও গলার স্নায়বিক প্রতিক্রিয়াও এতে বড় ভূমিকা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই অনুভূতির পেছনে মূলত তিনটি কারণ কাজ করে।

মুখের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার প্রভাব
ঠান্ডা পানি পান করলে মুখ ও গলার ভেতরের টিস্যু দ্রুত শীতল হয়। এই শীতলতা মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে সংকেত পাঠায় যে তৃষ্ণা মিটেছে। কুসুম গরম পানিতে সেই অনুভূতি তৈরি না হওয়ায় অনেক সময় পানি খাওয়ার পরও তেষ্টা রয়ে গেছে বলে মনে হয়।

শীতকালে বাতাসের শুষ্কতা
শীতে অধিকাংশ সময় আমরা বন্ধ ঘরে থাকি বা হিটার ব্যবহার করি। এতে ঘরের বাতাস শুষ্ক হয়ে যায়, যা নাক ও মুখের ভেতরও শুষ্কতা বাড়ায়। এই অবস্থায় ঠান্ডা পানি মিউকাস মেমব্রেনকে বেশি কার্যকরভাবে উদ্দীপিত করে, ফলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। গরম পানি সে অনুভূতি তুলনামূলক কম দেয়।

শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা
শীতকালে শরীর নিজের তাপমাত্রা ধরে রাখতে ভেতর থেকে বেশি কাজ করে, যাকে থার্মোরেগুলেশন বলা হয়। কখনো শরীর ভেতর থেকে উষ্ণ অনুভব করলে ঠান্ডা পানি পান করলে দ্রুত স্বস্তি আসে, তাই অনেকের কাছে এটি বেশি সতেজ মনে হয়।

গরম না ঠান্ডা—কোন পানি ভালো?

যদিও ঠান্ডা পানি তৃষ্ণা মেটাতে বেশি তৃপ্তিদায়ক মনে হয়, শীতকালে কিছু সতর্কতা জরুরি।

  • গরম পানির উপকারিতা: কুসুম গরম পানি হজমে সহায়ক, রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং সর্দি-কাশির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
  • ঠান্ডা পানির ঝুঁকি: অতিরিক্ত ঠান্ডা বা ফ্রিজের পানি গলার সমস্যা বা টনসিলের সংক্রমণ বাড়াতে পারে। তবে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি সাধারণত নিরাপদ।

তৃষ্ণা মেটানোর সহজ উপায়

গরম পানি খেয়েও যদি তৃপ্তি না আসে, তবে একেবারে ঠান্ডার বদলে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করতে পারেন। পানি মুখে কিছুক্ষণ রেখে কুলি করার মতো করে খেলে মুখ ও গলার স্নায়ু দ্রুত উদ্দীপিত হয়, ফলে তৃষ্ণা মেটে এবং আরামও বেশি পাওয়া যায়।