অনেক ফ্রিজ খুললেই নাকে এসে লাগে এক ধরনের অস্বস্তিকর গন্ধ। বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন, বাসি বা খোলা খাবার রাখাই এর একমাত্র কারণ। কিন্তু বাস্তবে ফ্রিজে দুর্গন্ধ হওয়ার পেছনে রয়েছে আরও কিছু লুকানো কারণ, যেগুলো আমরা অনেক সময় খেয়ালই করি না।

রান্না করা তরকারি, মাছ-মাংস, ডিম বা দুগ্ধজাত খাবার ঢাকনা ছাড়া ফ্রিজে রাখলে খুব দ্রুত গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। একইভাবে ফল বা সবজি পচে গেলেও তা থেকেই তৈরি হয় তীব্র দুর্গন্ধ, যা চোখে না পড়লেও নাকে ঠিকই ধরা পড়ে। দীর্ঘদিন ফ্রিজ পরিষ্কার না করলে কোণায় জমে থাকা খাবারের কণা ও পানিও গন্ধের বড় উৎস হয়ে ওঠে। এমনকি ফ্রিজের ড্রেন ট্রে বা রাবারের গ্যাসকেটেও জীবাণু জমে বোটকা গন্ধ ছড়াতে পারে।

ফ্রিজ খুললেই যদি পচা বা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ আসে, তা শুধু বিরক্তিকরই নয়—স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। আমরা অনেক সময় নিশ্চিন্তে ফ্রিজে খাবার রেখে দিই, কিন্তু সামান্য অসতর্কতায় সেই খাবার থেকেই তৈরি হয় দুর্গন্ধ ও জীবাণুর ঝুঁকি। তাই গন্ধের কারণ জানা এবং তা দূর করার সঠিক উপায় জানা জরুরি।

দুর্গন্ধ ঠেকাতে খাবার সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি

ফ্রিজে খাবার রাখার সময় সব সময় ঢাকনাযুক্ত বা এয়ারটাইট কনটেইনার ব্যবহার করুন। মাছ, মাংস কিংবা তীব্র গন্ধযুক্ত খাবার আলাদা বক্সে রাখলে গন্ধ ছড়ায় না। ফল ও সবজি নিয়মিত পরীক্ষা করে পচা অংশ সঙ্গে সঙ্গে ফেলে দিন।

সপ্তাহে অন্তত একবার ফ্রিজের ভেতর ভালো করে দেখে নিন। প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত খাবার জমিয়ে রাখবেন না। মাসে অন্তত একবার হালকা পরিষ্কার করলে দুর্গন্ধের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

ফ্রিজ পরিষ্কারের সহজ কৌশল

প্রতি মাসে একবার ফ্রিজ পুরো খালি করে পরিষ্কার করা সবচেয়ে ভালো। প্রথমে ফ্রিজ বন্ধ করে সব খাবার বের করুন। বাসি বা সন্দেহজনক খাবার ফেলে দিন। এরপর হালকা গরম পানিতে বেকিং সোডা বা ভিনিগার মিশিয়ে তাক, ড্রয়ার ও ভেতরের দেয়াল ভালো করে মুছে নিন। এতে জীবাণু নষ্ট হয় এবং গন্ধের মূল উৎস দূর হয়।

লেবু বা ভিনিগারও দুর্গন্ধ দূর করতে কার্যকর। একটি লেবু কেটে বা লেবুর খোসা একটি ছোট বাটিতে রেখে ফ্রিজে রাখলে তার প্রাকৃতিক গুণে গন্ধ শোষিত হয়। চাইলে ভিনিগার ভেজানো কাপড় দিয়ে ফ্রিজ মুছলেও ভালো ফল পাওয়া যায়।

বেকিং সোডা—দুর্গন্ধ দূর করার সহজ সমাধান

ফ্রিজে দুর্গন্ধ দূর করার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কার্যকর উপায় হলো বেকিং সোডা। একটি খোলা পাত্রে ২–৩ টেবিল চামচ বেকিং সোডা রেখে দিন। এটি ফ্রিজের বাতাস থেকে দুর্গন্ধ শোষণ করে এবং ভেতরের পরিবেশ সতেজ রাখে। ভালো ফল পেতে প্রতি ২–৩ মাস অন্তর বেকিং সোডা বদলে নিন।

এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো মেনে চললেই ফ্রিজ খুললেই আর বোটকা গন্ধ নয়—বরং থাকবে পরিচ্ছন্নতা ও সতেজতার অনুভূতি।