নতুন একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর ভবিষ্যৎ শরীর ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে মায়ের খাদ্যাভ্যাসের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্বজুড়ে শিশুদের ডায়াবেটিস ও জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস নিয়ে গবেষণা চললেও সাম্প্রতিক ফলাফলগুলো বিষয়টিকে নতুন করে গুরুত্ব দিচ্ছে।

ভারতের ম্যাটারনাল নিউট্রিশন স্টাডি (পিএমএনএস)-এর গবেষকদের মতে, গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে ভিটামিন বি১২ ও ফোলেটের ঘাটতি থাকলে কিংবা মা অপুষ্টিতে ভুগলে, সন্তানের পরবর্তী জীবনে টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াবেটিসকে টাইপ ২ এবং শিশুদের ডায়াবেটিসকে টাইপ ১ হিসেবে ধরা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ও কিশোরদের মধ্যেও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের হার বাড়ছে, এমনকি কৈশোরে টাইপ ৫ ডায়াবেটিসের ঘটনাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিন হরমোনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের ক্ষেত্রে কখনও অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ইনসুলিনের ঘাটতি দেখা দেয়, আবার অনেক সময় ইনসুলিন তৈরি হলেও শরীর তা কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না—যাকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বলা হয়। গবেষকদের মতে, এই সমস্যার সূচনা হতে পারে গর্ভকালেই। গর্ভাবস্থায় মায়ের পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুর অগ্ন্যাশয়সহ বিভিন্ন অঙ্গ সঠিকভাবে গঠিত না হলে ভবিষ্যতে ইনসুলিন নিঃসরণে প্রভাব পড়ে।

এ ধরনের শিশুদের বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত ওজন বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়ায় রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ে এবং অল্প বয়সেই টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

পুনের গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে ধারণা ছিল জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস মূলত গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের ফল। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, গর্ভধারণের আগেই বা শৈশব থেকেই মায়ের খাদ্যাভ্যাস অস্বাস্থ্যকর হলে এবং শরীরে পুষ্টির ঘাটতি থাকলে ভবিষ্যতে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এর প্রভাব পড়ে সন্তানের ওপরও। জন্মের পর শিশুর ডায়াবেটিসের আশঙ্কা বাড়ার পাশাপাশি সিজারিয়ান ডেলিভারিতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, সংক্রমণ, নবজাতকের রক্তে শর্করা কমে যাওয়া, তীব্র জন্ডিস বা শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে গর্ভাবস্থার ১২–১৫ সপ্তাহের মধ্যে মায়ের রক্ত পরীক্ষা করা হয়। ইতিহাস না থাকলে সাধারণত ১৬–২০ সপ্তাহে পরীক্ষা করা হয়। ফাস্টিং সুগার বা ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্টে সমস্যা ধরা পড়লে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা হয় এবং নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাস মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য ক্যালোরি হিসেব করে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। বাইরের খাবার, প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।