শীতকালে অনেকের কাছেই মাথাব্যথা, বিশেষ করে মাইগ্রেন, নিত্যদিনের সমস্যায় পরিণত হয়। ঠান্ডা আবহাওয়া, শুষ্কতা ও জীবনযাপনের কিছু অভ্যাসের কারণে এ সময় মাইগ্রেনের প্রকোপ বাড়তে পারে। তবে কিছু সহজ সতর্কতা ও ঘরোয়া উপায় মেনে চললে এই কষ্ট অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতে মাইগ্রেন নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাথা ও কান ভালোভাবে ঢেকে রাখা জরুরি। বাইরে বের হলে মাফলার, টুপি বা হুডি ব্যবহার করা উচিত, যাতে ঠান্ডা বাতাস সরাসরি মাথা ও কানে না লাগে। একই সঙ্গে শরীরে পানিশূন্যতা যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার। শীতে তৃষ্ণা কম লাগলেও নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি, কারণ ডিহাইড্রেশন মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়াতে পারে।

এ সময় ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিও মাইগ্রেনের একটি কারণ হতে পারে। তাই প্রতিদিন কিছুক্ষণ রোদে থাকা বা চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া উপকারী। অতিরিক্ত চা বা কফি এড়িয়ে চলা, ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যেমন বাদাম, পালংশাক ও কলা খাদ্যতালিকায় রাখা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম মাইগ্রেন প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনিয়মিত ঘুম মাথাব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি তীব্র সুগন্ধি, ধোঁয়া বা বদ্ধ ঘরের রুম ফ্রেশনার থেকেও দূরে থাকা ভালো, কারণ এসব অনেক সময় মাইগ্রেন ট্রিগার করে।

ব্যথা যদি তীব্র হয় এবং ঘরোয়া উপায়ে নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে দ্রুত স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে বিএসএমএমইউয়ের মতো বিশেষায়িত হাসপাতালে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

শীতে মাইগ্রেন কমাতে করণীয়গুলো হলো—

  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পর্যাপ্ত ঘুমানো
  • অতিরিক্ত বা কম আলোতে কাজ না করা
  • তীব্র ঠান্ডায় অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া, বের হলে মাথা ঢেকে রাখা
  • উচ্চ শব্দ ও কোলাহলপূর্ণ পরিবেশ এড়িয়ে চলা
  • দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা টিভির পর্দার সামনে না থাকা
  • খাওয়া, হাত-মুখ ধোয়া বা গোসলের সময় হালকা গরম পানি ব্যবহার করা

মাইগ্রেন প্রতিরোধে সহায়ক কিছু খাবার—

  • ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যেমন ঢেঁকিছাঁটা চালের ভাত, আলু ও বার্লি
  • ফলের মধ্যে খেজুর ও ডুমুর
  • সবুজ, হলুদ ও কমলা রঙের শাকসবজি
  • হারবাল চায়ের বদলে গ্রিন টি
  • ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার
  • তিল, আটা ও বিট
  • আদার রস বা আদার টুকরো দিনে দুবার পানির সঙ্গে

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, কোন খাবার বা কোন পরিস্থিতিতে ব্যথা বাড়ে বা কমে—তা অন্তত এক সপ্তাহ নোট করে রাখলে নিজের জন্য উপযোগী সমাধান খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। পাশাপাশি নতুন গবেষণায় ভিটামিন ‘সি’ গ্রহণের উপকারিতার কথাও উঠে এসেছে। এছাড়া গরম পানিতে লবণ ও লেবুর রস, মেন্থল দিয়ে ভাপ নেওয়া কিংবা হালকা ম্যাসাজ করলে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে।