সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা নির্দিষ্ট সময় উপবাস থাকার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সেলিব্রিটি তাদের ফিটনেস রুটিনে এই পদ্ধতির কথা উল্লেখ করায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।
তবে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং আদৌ কতটা উপকারী—এ নিয়ে সবার মধ্যে পরিষ্কার ধারণা নেই। এ বিষয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. শিবকুমার সারিন।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ডা. সারিন বলেন, এই ধরনের উপবাস স্বল্পমেয়াদে অনুসরণ করা যেতে পারে। তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত এটি উপকারী হতে পারে, তবে আজীবনের জন্য এই পদ্ধতি অনুসরণ করা বাস্তবসম্মত নয়।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের কিছু উপকারিতা রয়েছে। উপবাসের সময় শরীর সঞ্চিত চর্বিকে শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার শুরু করে, ফলে ওজন ও শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট কমতে পারে। একই সঙ্গে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা কমে, যা ফ্যাট পোড়াতে সহায়ক এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এই পদ্ধতিতে কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।
ডা. সারিন আরও জানান, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের সময় শরীর ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত করে এবং নতুন কোষ তৈরির প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। পাশাপাশি এটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং আলঝাইমারের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
তবে এর কিছু ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শুরু করার প্রথম দিকে মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা ও দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে। খাবারের সময়সূচিতে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস কিংবা পেট ফাঁপার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি খাওয়ার ব্যাধির ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। অনেকেই উপবাস শেষে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শুরু করার আগে নিজের শরীর ও প্রয়োজন বুঝে, প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
