ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সৌদি আরব-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর মধ্যে বিরোধের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রয়টার্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিমানবন্দর থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে। তবে ফ্লাইট কার্যক্রম কবে নাগাদ পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য জানানো হয়নি।
২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে এসটিসি হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করলেও, একই সঙ্গে তারা দক্ষিণ ইয়েমেনে একটি আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। গত ডিসেম্বরে সৌদি সীমান্তবর্তী হাজরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশে এসটিসির সামরিক তৎপরতা বাড়ানোর পর উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়।
সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এসটিসিকে অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং এসব প্রদেশে তাদের বিস্তারে উৎসাহ দিচ্ছে, যা সৌদি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তবে ইউএই এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের নিরাপত্তার পক্ষেই রয়েছে।
যদিও ইউএই ইয়েমেন থেকে তাদের অবশিষ্ট সেনা প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে, এসটিসি হাজরামাউত ও আল-মাহরা থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অধীন এসটিসি-ঘনিষ্ঠ পরিবহন মন্ত্রণালয় দাবি করে, সৌদি আরব নতুন শর্ত আরোপ করায় এডেন বিমানবন্দরে ফ্লাইট বন্ধ হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এডেন থেকে আসা–যাওয়া করা ফ্লাইটগুলোকে জেদ্দায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
মন্ত্রণালয় জানায়, তারা এই সিদ্ধান্তে “বিস্মিত” হয়েছে। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, এই বিধিনিষেধ শুধু এডেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে চলাচলকারী ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
তবে একটি সৌদি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ফ্লাইট সীমাবদ্ধতার সিদ্ধান্ত সৌদি আরবের নয়; বরং ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের নেতৃত্বাধীন সরকারই ইউএইগামী ফ্লাইটের জন্য এই শর্ত দিয়েছে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা থাবেত আল-আহমাদি আল জাজিরাকে বলেন, একটি নির্দিষ্ট রুটে এই নিয়ম আরোপ করা হয়েছে এসটিসির অর্থ পাচার ঠেকানোর জন্য। তিনি জানান, সরকার সম্পূর্ণভাবে ফ্লাইট বন্ধের পক্ষে নয় এবং আকাশপথে যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখতে চায়।
এর আগে চলতি সপ্তাহে ইউএই ইয়েমেন থেকে তাদের অবশিষ্ট ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ বাহিনী প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এর পরপরই সৌদি আরব দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী মুকাল্লায় একটি ইউএই-সংশ্লিষ্ট অস্ত্র চালানে হামলার দাবি করে।
বুধবার ইয়েমেনের সরকারপ্রধান রাশাদ আল-আলিমি সতর্ক করে বলেন, এসটিসি যদি সংশ্লিষ্ট প্রদেশগুলোতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার চেষ্টা করে, তবে এর মারাত্মক পরিণতি হবে। তবে এসটিসি জানিয়েছে, তারা ওই প্রদেশগুলোতেই অবস্থান অব্যাহত রাখবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। বর্তমানে হুথিরা দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, আর দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে এসটিসি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব অব্যাহত রয়েছে।
