চীনে এক ব্যক্তি তার প্রাক্তন বাগদত্তার বিরুদ্ধে মামলা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। অভিযোগে তিনি বলেন, সম্পর্ক চলাকালে বাগদত্তা অতিরিক্ত খাবার খেতেন এবং তার পেছনে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা ফেরত চান তিনি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জংলান নিউজ জানায়, হংকংভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ৯ ডিসেম্বর আদালতে হওয়া একটি শুনানির খবর প্রকাশ করে, যা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হে নামের ওই ব্যক্তি তার সাবেক বাগদত্তা ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় তিনি দাবি করেন, বাগদানের সময় তার পরিবার ওয়াংয়ের পরিবারকে অগ্রিম যৌতুক হিসেবে ২০ হাজার ইউয়ান (প্রায় ২,৮০০ মার্কিন ডলার) দিয়েছিল এবং সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার আবেদন জানান।

এর পাশাপাশি, সম্পর্কের সময় ওয়াংয়ের জন্য খরচ করা আরও ৩০ হাজার ইউয়ান (প্রায় ৪,২০০ মার্কিন ডলার) ফেরত চাওয়া হয়। এর মধ্যে পোশাকসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী কেনার খরচও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উত্তর-পূর্ব চীনের হেইলংজিয়াং প্রদেশের বাসিন্দা হে ও ওয়াংয়ের পরিচয় হয়েছিল একটি ঘটকের মাধ্যমে। পরে তাদের বাগদান হয় এবং বাগদানের পর তারা উত্তর চীনের হেবেই প্রদেশে হের পরিবারের মালিকানাধীন একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করতে যান।

হের অভিযোগ, ওয়াং প্রতিদিন রেস্তোরাঁয় বিক্রির জন্য রাখা মালাতাং খাবার খেতেন, যা তার পরিবারের মধ্যে অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আদালতে হে ওয়াংয়ের জন্য কেনা বিভিন্ন জিনিসের তালিকা জমা দেন। তবে ওয়াং পাল্টা যুক্তিতে বলেন, “তুমি যে টাইটস আর অন্তর্বাস কিনে দিয়েছিলে, সেগুলো কি তুমি নিজেও উপভোগ করোনি?”

শুনানি শেষে আদালত ৩০ হাজার ইউয়ান ফেরতের দাবি নাকচ করে দেন। আদালতের মতে, এসব ব্যক্তিগত জিনিস উভয় পক্ষের আবেগীয় সম্পর্কের অংশ ছিল। তবে বাগদান ভেঙে যাওয়ায় অগ্রিম যৌতুক হিসেবে দেওয়া ২০ হাজার ইউয়ানের অর্ধেক অর্থ ফেরত দিতে ওয়াংকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই রায় উভয় পক্ষই মেনে নেয়।

চীনে যৌতুক বা ‘ব্রাইড প্রাইস’ একটি প্রচলিত সামাজিক প্রথা, যেখানে বরপক্ষ কনেপক্ষকে অর্থ বা উপহার দেয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রথা নিয়ে বিতর্ক বেড়েছে এবং অনেকেই একে নারীদের পণ্যায়নের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

২০২১ সালে কার্যকর হওয়া চীনের সিভিল কোড অনুযায়ী, বিয়ে সম্পন্ন না হলে বা দম্পতি একসঙ্গে বসবাস না করলে আদালত যৌতুক ফেরতের দাবি সমর্থন করতে পারে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। একজন মন্তব্য করেন, “এত হিসাব করলে সে কি তাহলে মেয়েটিকে বেতন দিত?” আরেকজন লেখেন, “সে স্ত্রী নয়, গৃহকর্মী খুঁজছিল।” তৃতীয় একজনের মন্তব্য, “এই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াই মেয়েটির জন্য সৌভাগ্যের।”