প্রত্যেক মানুষের শরীরের ঘ্রাণ অনন্য, যা জিন, হরমোন, স্বাস্থ্য ও খাদ্যাভ্যাসের ওপর নির্ভর করে। স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব স্টারলিংয়ের অধ্যাপক ক্রেইগ রবার্টস বলেন, গত কয়েক দশকের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে খাবার আমাদের শরীরের গন্ধকে পরিবর্তন করে এবং অন্যের কাছে আমাদের আকর্ষণীয়তা নির্ধারণ করে।
খাবার দুইভাবে শরীরের ঘ্রাণ প্রভাবিত করে:
১. পাচনতন্ত্রের মাধ্যমে – খাবার হজমের সময় ব্যাকটেরিয়া গ্যাস তৈরি করে, যা মুখের দুর্গন্ধ (হ্যালিটোসিস) সৃষ্টি করে।
২. ত্বকের মাধ্যমে – হজম হওয়া রাসায়নিক রক্তে মিশে ঘামের সঙ্গে বের হয় এবং ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে মিলে দুর্গন্ধ তৈরি করে।
সালফারযুক্ত খাবারের প্রভাব
রসুন, পেঁয়াজ, ব্রোকলি, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদিতে সালফার যৌগ থাকে, যা ঘাম ও শ্বাসে তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, রসুন খেলে ঘামের গন্ধ আরও আকর্ষণীয় হয়। একটি পরীক্ষায় রসুন খাওয়া পুরুষদের ঘাম নারীদের কাছে বেশি মনোরম বলে মনে হয়েছে।
ফল-সবজি বনাম মাংস
অস্ট্রেলিয়ার এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফল-সবজি বেশি খাওয়া পুরুষদের ঘাম মিষ্টি ও ফলের মতো মনোরম হয়। বিপরীতে কার্বোহাইড্রেট বা মাংস বেশি খেলে ঘ্রাণ কম আকর্ষণীয় হয়। ২০০৬ সালের আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, মাংসবিহীন ডায়েটে থাকা পুরুষদের ঘাম বেশি মনোরম।
অ্যাসপারাগাস ও অ্যালকোহল
অ্যাসপারাগাস খেলে প্রস্রাব ও ঘামে বিশেষ দুর্গন্ধ হয়, যা জেনেটিক্সের ওপর নির্ভর করে। অ্যালকোহল (বিশেষ করে বিয়ার) ও কফি ঘামগ্রন্থি উদ্দীপিত করে দুর্গন্ধ বাড়ায়।
উপবাসের প্রভাব
উপবাসকারীদের ঘাম কখনো কখনো বেশি আকর্ষণীয় হয় বলে গবেষণায় দেখা গেছে।
