বাঙালির পাতে ভাত ছাড়া একবেলাও অচল! দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভাত খেয়ে অনেকেই প্রশান্তি পান। কিন্তু সাম্প্রতিককালে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে ভাত কমিয়ে শাকসবজি, ফলমূল ও রুটির দিকে ঝোঁক বেড়েছে। অনেকে প্রশ্ন করেন—ভাত খাওয়া কি আসলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর?
পুষ্টিবিদরা বলছেন, ভাত নিজে থেকে ক্ষতিকর নয়—সমস্যা হয় অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে। ভাত আমাদের প্রধান শক্তির উৎস। এতে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা দ্রুত শক্তি জোগায়। বাংলাদেশ, ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনামের মতো দেশে ভাতই প্রধান খাদ্য। সাদা চালে ভিটামিন বি, ম্যাগনেশিয়াম ও আয়রনের সামান্য উপস্থিতি থাকে। তবে ফাইবার প্রায় নেই। ব্রাউন রাইস বা লাল চালে ফাইবার বেশি থাকায় স্বাস্থ্যের জন্য আরও উপকারী।
দিনে কতটুকু ভাত খাওয়া উচিত?
সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ১০০ গ্রাম চালের ভাত (প্রায় ৩৫০-৩৬০ কিলোক্যালরি) যথেষ্ট। যাদের শারীরিক পরিশ্রম কম, তাদের জন্য ৬০-৭০ গ্রাম চালই যথেষ্ট। খেলাধুলা করা শিশু-কিশোররা (১২-১৪ বছর) ১২০-১৫০ গ্রাম চাল খেতে পারে। ওজন কমাতে চাইলে ভাতের পরিমাণ কমিয়ে শাকসবজি বা রুটি বেশি খাওয়া ভালো।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভাত
ভাতের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি হওয়ায় রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ভাত একেবারে বাদ দিতে হয় না। নিয়মিত ব্যায়াম, ওষুধ বা ইনসুলিনের মাধ্যমে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখলে মাপমতো ভাত খাওয়া যায়। তবে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।
ভারসাম্যপূর্ণ খাবারের গুরুত্ব
ভাতের সঙ্গে ডাল, শাকসবজি, মাছ বা মাংস খেলে ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি পূরণ হয়। তাই দিনে একাধিকবার ভাত খাওয়া ক্ষতিকর নয়—যদি পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য থাকে।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, ভাত বাঙালির ঐতিহ্য ও শক্তির উৎস। এটাকে পুরোপুরি বাদ না দিয়ে সঠিক পরিমাণে খেলে শরীর সুস্থ থাকবে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য ভাতকে বন্ধু রাখুন—শুধু মাত্রা ঠিক রাখুন!
