আধুনিক জীবনযাত্রার অনিয়মিত রুটিন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে বাংলাদেশে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এখন হৃদরোগ।

অতিরিক্ত ফ্যাট, কোলেস্টেরল ও লবণ ধমনিতে ব্লক তৈরি করে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত করে। ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতা এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, কিছু সাধারণ খাবার যা আমরা প্রতিদিন খেয়ে থাকি, সেগুলোই হৃদযন্ত্রের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর। এখানে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায় এমন ৯টি খাবারের তালিকা দেওয়া হলো:

১. কোমল পানীয় (সোডা)
প্রতি ১২ আউন্সের এক ক্যানে প্রায় ১০ চা চামচ চিনি থাকে। নিয়মিত পানে ওজন বাড়ে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কৃত্রিম চিনির সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্কও পাওয়া গেছে।

২. সাদা ব্রেড ও অতিরিক্ত লবণ
সাদা ব্রেডে উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা রক্তে চিনির মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বাড়ায় এবং ধমনিতে ব্লক তৈরি করে। দিনে ৫ গ্রামের বেশি লবণ না খাওয়াই ভালো।

৩. প্রক্রিয়াজাত মাংস
সসেজ, হটডগ, বেকন ইত্যাদিতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও লবণের পরিমাণ বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন একটি করে প্রক্রিয়াজাত মাংস খেলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৪২% পর্যন্ত বেড়ে যায়।

৪. ফাস্টফুড
চিনি, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, কোলেস্টেরল ও অতিরিক্ত ক্যালোরি—ফাস্টফুডে সবই আছে। এগুলো হৃদরোগজনিত মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

৫. পিৎজা
পিৎজায় ফ্যাট, লবণ ও প্রক্রিয়াজাত মাংসের মিশ্রণ থাকে। উচ্চ স্যাচুরেটেড ফ্যাটের কারণে হৃদযন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

৬. আইসক্রিম
পরিশোধিত চিনি, ফ্যাটযুক্ত দুধ ও কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ আইসক্রিম ক্যালোরি বাড়ায় এবং হার্টের ঝুঁকি তৈরি করে।

৭. কলিজা, মগজ, হাড়ের মজ্জা
এসব অফালে অত্যধিক কোলেস্টেরল থাকে। হৃদরোগীদের জন্য নেহারি, কলিজা বা মগজের খাবার সম্পূর্ণ বর্জন করা উচিত।

৮. মাছের মাথা ও ডিম
মাছের মাথা ও ডিমে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (এলডিএল) ও ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি। রক্তের লিপিড প্রোফাইল খারাপ করে হার্টের ঝুঁকি বাড়ায়।

৯. চিংড়ি
ক্যালোরি ও ফ্যাট কম হলেও চিংড়িতে কোলেস্টেরলের পরিমাণ খুব বেশি। একই পরিমাণ স্যামন মাছে ৬২ মিগ্রা কোলেস্টেরল থাকলে চিংড়িতে পাওয়া যায় ১৮৯ মিগ্রা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই খাবারগুলো এড়িয়ে চললে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। হৃদরোগ থেকে বাঁচতে আজই সচেতন হোন!