ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে কমলা। নিয়মিত কমলা খেলে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়। এতে থাকা প্রাকৃতিক ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং অন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।

যাদের প্রায়ই পেট ভারী ভাব বা অস্বস্তি হয়, তাদের জন্য কমলা হতে পারে সহজ ও প্রাকৃতিক সমাধান। পাশাপাশি কমলায় থাকা প্রচুর পানি শরীরের পানিশূন্যতা কমাতে সাহায্য করে।

বিশেষ করে গরমের সময় প্রতিদিন একটি বা দুটি কমলা শরীরকে রাখে চাঙা ও কর্মক্ষম।

কমলা মানসিক চাপ কমাতেও সহায়ক। এতে থাকা ভিটামিন ‘সি’ স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে, ফলে মন থাকে ফুরফুরে। ব্যস্ত জীবনে প্রতিদিন একটি কমলা মানসিক স্বস্তি দিতে পারে।

একইসঙ্গে চোখের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী এই ফল। কমলায় থাকা ভিটামিন ‘এ’ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য কমলা চোখের জন্য উপকারী একটি ফল।

স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে খাদ্যতালিকায় কমলা রাখা জরুরি। কম ক্যালোরিযুক্ত হলেও এতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার ও প্রাকৃতিক ভিটামিন ‘সি’।

কমলা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে খিদে কম লাগে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়। একই সঙ্গে এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রেখে চর্বি জমার ঝুঁকি কমায়। তাই ডায়েটে কমলা একটি আদর্শ ফল হিসেবে বিবেচিত।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও কমলার তুলনা নেই। ভিটামিন ‘সি’-এর অন্যতম প্রধান উৎস হওয়ায় নিয়মিত কমলা খেলে সর্দি-কাশি, জ্বর ও মৌসুমি সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়। আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় কমলা শরীরের জন্য প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।

এ ছাড়া ত্বক উজ্জ্বল ও সতেজ রাখতেও কমলার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ‘সি’ ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়, ফলে ত্বক থাকে টানটান ও প্রাণবন্ত। নিয়মিত কমলা খেলে ত্বকের শুষ্কতা কমে এবং ব্রণ ও দাগছোপের সমস্যাও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে থাকে।

পাশাপাশি কমলায় থাকা ফাইবার, পটাশিয়াম ও ফ্ল্যাভোনয়েড হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়তা করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।