বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রথমবারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর ২০২৫) সকালে দেওয়া এই দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাদু খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাটানো প্রিয় স্মৃতি, নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা এবং দেশে ফিরে আসার ইচ্ছার কথা তুলে ধরেছেন।
পোস্টে জাইমা লিখেছেন, তার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতি হলো খালেদা জিয়ার মমতাময়ী অভিভাবকসুলভ আচরণ। ১১ বছর বয়সে স্কুলের ফুটবল টুর্নামেন্টে মেডেল জেতার পর মা তাকে সরাসরি খালেদা জিয়ার অফিসে নিয়ে যান। সেখানে তিনি উচ্ছ্বাসের সঙ্গে নিজের গোলকিপার হিসেবে ভূমিকার গল্প শোনান, আর খালেদা জিয়া অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে শুনেছিলেন এবং গর্ববোধ করেছিলেন। পরে তিনি অন্যদের কাছেও সেই গল্প বলতেন।
জাইমা উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়ার কাঁধে দেশের দায়িত্ব থাকলেও তিনি সবসময় পরিবারের প্রতি যত্নশীল ছিলেন। নাতি-নাতনিদের জন্য সময় বের করতেন, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সাহস ও উৎসাহ দিতেন। এসব ছোট মুহূর্ত থেকেই তিনি নেতৃত্বের প্রথম শিক্ষা পেয়েছেন— নম্রতা, আন্তরিকতা এবং মন দিয়ে শোনার গুণ।
লন্ডনে কাটানো ১৭ বছরের জীবনের কথা তুলে ধরে জাইমা বলেন, এ সময় তিনি বাস্তববাদী হয়েছেন, বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করেছেন, কিন্তু শিকড় কখনো ভোলেননি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আইন পেশায় কাজ করে তিনি মানুষের সমস্যা কাছ থেকে দেখেছেন, ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করেছেন। এ অভিজ্ঞতা তাকে দায়িত্বশীলতা ও বিপদগ্রস্তের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছে।
তিনি জানান, দাদা জিয়াউর রহমানকে কখনো দেখেননি, কিন্তু তার সততা ও দেশপ্রেমের কথা শুনে বড় হয়েছেন। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সেই আদর্শ বহন করে চলেছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহে নেপথ্য থেকে যথাসাধ্য ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
পোস্টের শেষে জাইমা ঘোষণা দেন, অনেক বছর পর তিনি দেশে ফিরছেন। ফিরে খালেদা জিয়ার পাশে থাকতে চান, তারেক রহমানকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চান এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চান। নিজ চোখে বাংলাদেশকে নতুন করে জানতে, মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে এবং দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে চান তিনি।
জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লেখেন, পরিবারকে ঘিরে জনগণের কৌতূহল, প্রত্যাশা ও দায়বোধ রয়েছে। সেই প্রত্যাশা পূরণের চাপ অনুভব করেন তারা। নিজের গল্প শেয়ার করে জাইমা বলেন, প্রত্যেকেরই একটি নিজস্ব গল্প আছে— সেই গল্পগুলো ধারণ করে একসঙ্গে পথ চলা যেতে পারে।
