নতুন বছরের শুরুতেই অনেকের মনে প্রশ্ন ওঠে, এবার কি ওজন কমানো সম্ভব? ডিসেম্বর মাসে অতিরিক্ত খাওয়ার পর জানুয়ারিতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন অনেকে।

নানা পরিকল্পনা করা হয়, যেমন ক্র্যাশ ডায়েট, দীর্ঘ সময় জিমে পরিশ্রম বা প্রিয় খাবারগুলো পুরোপুরি বাদ দেয়া। তবে এইসব পরিকল্পনা বেশিরভাগ সময় দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

ফিটনেস ও ওয়েলনেস কোচ সুমিত দুবে বলছেন, ওজন কমানোর মানে নিজের উপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া নয়। বরং, জীবনযাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ছোট ছোট সুস্থ অভ্যাস গড়ে তোলা।

পারফেক্ট হওয়ার চাপ ত্যাগ করুন
সুমিতের মতে, সবকিছু একদম নিখুঁতভাবে করতে হবে এমন চিন্তা ব্যর্থতার কারণ হতে পারে। প্রতিদিন নিয়মিত জিম বা এক ফোঁটা মিষ্টি না খাওয়ার এই “১০০ শতাংশ” মানসিকতা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। যদি ১০ দিনের মধ্যে ৭ দিন নিয়ম মেনে চলা যায়, সেটাই ভালো অগ্রগতি। একদিন ব্যায়াম মিস বা একটু বেশি খেয়ে ফেললেও চিন্তার কিছু নেই। নিয়মিত ছোট কাজগুলোই আসল বিষয়।

খাবারের দিকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিন
ওজন কমানোর জন্য অনেকেই মনে করেন ভাত-রুটি বাদ দিতে হবে, কিন্তু বাস্তবে তা নয়। ডাল, সবজি, ভাত, রুটি—এসব ঘরোয়া খাবারই যথেষ্ট, যদি খাওয়ার পরিমাণ ও সময়ের দিকে খেয়াল রাখা যায়। অতিরিক্ত মিষ্টি, ভাজাভুজি বা গভীর রাতে স্ন্যাকস কমালেই বড় পরিবর্তন আসবে। কঠোর ডায়েট শরীর ও মনকে ক্লান্ত করে তোলে, যা দীর্ঘস্থায়ী নয়।

জিম না গেলেও চলবে
সবাই জিম পছন্দ করে না, যা স্বাভাবিক। তবে ওজন কমাতে জিম যাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। হাঁটা, যোগব্যায়াম, ঘরে হালকা এক্সারসাইজ বা সহজ স্ট্রেংথ ট্রেনিং—যেটা আপনার ভালো লাগে, সেটা করুন। প্রতিদিন ৩০-৪৫ মিনিট শরীরচর্চা করলেই যথেষ্ট। ইনস্টাগ্রামের কঠিন রুটিন দেখে নিজের উপর চাপ ফেলবেন না।

ঘুম ও স্ট্রেসের গুরুত্ব দিন
কম ঘুম এবং অতিরিক্ত স্ট্রেস ওজন কমানোর সবচেয়ে বড় শত্রু। যদি ভালোভাবে না ঘুমানো হয়, তাহলে ফ্যাট বার্ন কমে যায়, এবং খাওয়ার ইচ্ছা বেড়ে যায়। স্ট্রেসে থাকলে আমরা অকারণে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলি। তাই পর্যাপ্ত ঘুম, হালকা হাঁটা ও গভীর শ্বাস নেওয়ার মতো ছোট অভ্যাসগুলো জরুরি। বিশ্রাম কোনো বিলাসিতা নয়, বরং রুটিনের অংশ।

ওজন মেশিনের সংখ্যার দিকে অতিরিক্ত মনোযোগ দেবেন না
প্রতিদিন ওজন মাপা মানে মানসিক চাপ তৈরি করা। ওজন শুধুমাত্র একটি সংখ্যা, যা সবকিছু নয়। বরং দেখুন, সহনশক্তি বাড়ছে কি না, কোমরের মাপ কমছে কি না, জামা ঢিলাচ্ছে কি না। সপ্তাহে একদিন ওজন মাপলেই যথেষ্ট। আসল পরিবর্তনটা আপনি অনুভব করবেন দৈনন্দিন জীবনে।

নতুন বছর শুরু হলে সবাই নানা পরিকল্পনা করে থাকে। যদি ওজন নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা থাকে, তবে সঠিক নিয়ম মানা জরুরি। সবচেয়ে ভালো হবে যদি চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া যায়। ইন্টারনেটে দেখে নিজের মতো করে পরিকল্পনা করলে তা বিপদের কারণ হতে পারে।