ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং শহিদ ওসমান হাদির জানাজার নামাজে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জড়ো হচ্ছেন। সকাল থেকেই জানাজার স্থানগুলোতে আসতে শুরু করেন বিপুল সংখ্যক মানুষ।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর অধিকাংশ জায়গা পূর্ণ হয়ে গেছে, এবং সেখানে বিভিন্ন স্লোগান শোনা যাচ্ছে, যেমন, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’ ইত্যাদি। ছাত্র-জনতা একের পর এক মিছিল নিয়ে জানাজার স্থানে পৌঁছাচ্ছে।
জানাজা উপলক্ষে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের প্রবেশপথে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী, র্যাব, এবং আনসার বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রায় ১ হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ পুলিশ বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে।
শহিদ ওসমান হাদির মরদেহ বর্তমানে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে রাখা রয়েছে। তার সহযোদ্ধা ও সমর্থকরা মিছিলসহ তার মরদেহ নিয়ে আসবেন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে। দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে যে, শহিদ ওসমান হাদিকে কবি নজরুলের পাশেই দাফন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা পরিবারের দাবির ভিত্তিতে হয়েছে। জানাজা পড়াবেন হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হলে, শহিদ ওসমান হাদির মাথায় আঘাত লেগে গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, এরপর সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।
ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ ১৯ ডিসেম্বর চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়।

