বিশ্বের বৃহত্তম তুষার মরুভূমি অ্যান্টার্কটিকা—মাইলের পর মাইল বিস্তৃত শুভ্র বরফের চাদরে ঢাকা এই জনশূন্য মহাদেশ। বিজ্ঞানীদের কাছে এটি সবসময়ই কৌতূহলের বিষয়।
কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় এই বরফের দেশে নতুন উদ্বেগের ছায়া পড়েছে।
নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্টার্কটিকার বায়ুমণ্ডলে আইস নিউক্লিয়েটিং পার্টিকলস (INP)—যা মেঘে বরফের স্ফটিক তৈরিতে সাহায্য করে—এর পরিমাণ বিশ্বের যে কোনও অঞ্চলের তুলনায় সবচেয়ে কম।
এই কণাগুলো খনিজ ধুলো, মাটি, ছাই বা জৈবিক উপাদান (যেমন প্রোটিন) থেকে আসে। অ্যান্টার্কটিকার দূরবর্তী অবস্থান এবং জৈবিক উৎসের অভাবে এখানে INP-এর ঘনত্ব অত্যন্ত নিম্ন।
এর ফলে অ্যান্টার্কটিকার মেঘগুলোতে সুপারকুল্ড লিকুইড ওয়াটার (অতি শীতল তরল জল) বেশি থাকে, যা বরফে পরিণত হতে পারে না সহজে। এতে মেঘের বিকিরণ প্রভাব পরিবর্তিত হয় এবং জলবায়ু মডেলে অনিশ্চয়তা বাড়ে।
জার্মানির লাইবনিজ ইনস্টিটিউট ফর ট্রপোস্ফেরিক রিসার্চ (TROPOS)-এর নেতৃত্বে চালানো এই গবেষণায় তিনটি স্টেশন (নিউমায়ার, প্রিন্সেস এলিজাবেথ এবং অ্যান্টার্কটিক পেনিনসুলা) থেকে সংগৃহীত নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষক হেইকে ওয়েক্স জানিয়েছেন, এটি অ্যান্টার্কটিকার অনন্য বায়ুমণ্ডলের প্রমাণ, যেখানে INP-এর উৎস খুবই সীমিত।
বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে ভবিষ্যতে যদি সমুদ্রের বরফ কমে যায় বা জৈবিক কার্যকলাপ বাড়ে, তাহলে INP-এর পরিমাণ বদলে যেতে পারে, যা মেঘের গঠন এবং পৃথিবীর জলবায়ুতে বড় প্রভাব ফেলবে।
এই আবিষ্কার জলবায়ু মডেলগুলোকে আরও নির্ভুল করতে সাহায্য করবে এবং অ্যান্টার্কটিকার ভঙ্গুর পরিবেশের গুরুত্ব তুলে ধরছে। গবেষণাপত্রটি ২০২৫ সালে জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

