ফ্যাটি লিভার বর্তমানে একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসমস্যা। বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষ এই ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হচ্ছেন।

যদিও অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণকারীদের মধ্যেই ফ্যাটি লিভারের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। তবে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যাও ফ্যাটি লিভারের জন্য দায়ী।

আমেরিকান লিভার ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রেই প্রায় ১০ কোটি মানুষ অ্যালকোহলবিহীন ফ্যাটি লিভার রোগে (NAFLD) ভুগছেন।

চিকিৎসায় ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট কার্যকর হলেও সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে ব্যয়বহুল। তাই বিশেষজ্ঞরা ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক পদ্ধতির ওপর জোর দিচ্ছেন।

স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং দৈনন্দিন রুটিনে কিছু উপকারী পানীয় যোগ করলে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। এমনই তিনটি প্রাকৃতিক পানীয় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক—

গ্রিন টি

গ্রিন টি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর একটি স্বাস্থ্যকর পানীয়। এতে থাকা ক্যাটেচিন নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারের কোষকে ফ্রি র‍্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

২০১৫ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড এক্সপেরিমেন্টাল মেডিসিন-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত গ্রিন টি পান করেন, তাদের লিভারে অতিরিক্ত ফ্যাট জমার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।

পাশাপাশি এটি প্যানক্রিয়াটিক লিপেজের মতো ফ্যাট শোষণকারী এনজাইমের কার্যকারিতা কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।

আদা চা

আদা প্রাকৃতিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি উপাদান, যাতে রয়েছে ৪০০টির বেশি জৈব সক্রিয় যৌগ এবং প্রায় ৪০টি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান।

২০১৬ সালে হেপাটাইটিস মান্থলি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ১২ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ২ গ্রাম আদা গ্রহণ করলে ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং লিভারের প্রদাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

নিয়মিত এক কাপ আদা চা পান করলে ফ্যাটি লিভারের পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, বমি বমি ভাব কমানো এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও উপকার পাওয়া যায়।

অ্যাপল সাইডার ভিনেগার

অ্যাপল সাইডার ভিনেগার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ একটি পানীয়, যা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ফ্যাটি লিভার কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

২০২১ সালে BMC Complementary Medicine and Therapies-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যাপল সাইডার ভিনেগার টাইপ–২ ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

গ্লুকোজ ও ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে থাকলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিও কমে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, অ্যাপল সাইডার ভিনেগার অবশ্যই পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে এবং স্ট্র ব্যবহার করে পান করা উচিত, কারণ অতিরিক্ত ঘন ভিনেগার দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করতে পারে।

‘ব্রেন ডেথ’ কী?