একসময় ধারণা করা হতো, বয়স বাড়লেই ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ার সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে কম বয়সীরাও এই সমস্যায় ভুগছেন। হঠাৎ জয়েন্টে ব্যথা, হাঁটু বা পায়ের আঙুলে ফোলা, কিংবা অজানা শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গের পেছনে ইউরিক অ্যাসিডের ভূমিকা থাকতে পারে।

শরীর যখন স্বাভাবিকভাবে ইউরিক অ্যাসিড নির্গত করতে ব্যর্থ হয়, তখন তা জয়েন্টে ক্রিস্টাল তৈরি করে, যা জ্বালা ও প্রদাহের কারণ হয়।

চিকিৎসক ডা. শিবরাম বলেন, ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা শুধু জয়েন্টেই সীমাবদ্ধ নয়। সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করলে কিডনির ক্ষতি এবং চলাফেরায় জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হওয়া জরুরি। বিশেষ করে যেসব খাবার ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায়, সেগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।

যেসব খাবার ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়াতে পারে—

১. রেড মিট
গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষের মাংসে প্রচুর পিউরিন থাকে। এসব সরাসরি ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায় এবং জয়েন্টে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে।

২. অর্গান মিট
যকৃত, কিডনি ও মস্তিষ্কের মতো অঙ্গের মাংসে পিউরিনের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। উচ্চ ইউরিক অ্যাসিডের রোগীদের জন্য এগুলো এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

৩. কিছু সামুদ্রিক খাবার
উচ্চ-পিউরিনযুক্ত সামুদ্রিক খাবার গাঁটের ব্যথার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে তুলনামূলকভাবে সালমন বা কোড মাছ নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত।

৪. প্রসেসড ও জাঙ্ক ফুড
প্যাকেটজাত খাবার, ফ্রাইড ও ফাস্ট ফুডে সরাসরি পিউরিন না থাকলেও এগুলো প্রদাহ বাড়ায় এবং ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি করে।

৫. অ্যালকোহল, বিশেষ করে বিয়ার
অ্যালকোহল শরীর থেকে ইউরিক অ্যাসিড বের হতে বাধা দেয়। ফলে জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে।

৬. অতিরিক্ত ডাল ও কিছু শাকসবজি
স্বাস্থ্যকর হলেও সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খেলে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে জয়েন্ট পেইন হতে পারে।

৭. চিনি জাতীয় পানীয় ও সোডা
ফ্রুক্টোজ ইউরিক অ্যাসিডের উৎপাদন বাড়ায়। তাই মিষ্টি পানীয় ও সোডা সীমিত রাখা জরুরি।

৮. উচ্চ চর্বিযুক্ত ডেইরি পণ্য
পুরো ফ্যাটের দুধ, ক্রীম ও চিজ প্রদাহ বাড়াতে পারে। লো-ফ্যাট বিকল্প বেছে নেওয়াই ভালো।

ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি। উপসর্গ জটিল হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।