হাঁটার সময় হঠাৎ পায়ের পেশিতে টান ধরা বা আড়মোড়া ভাঙতে গিয়ে পেশি শক্ত হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। আবার ঘুমের মধ্যেই পায়ের মাংসপেশিতে তীব্র টান ও ব্যথায় ঘুম ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও বেশ সাধারণ।

চিকিৎসকদের ভাষায়, মাংসপেশিতে এ ধরনের টান পড়াকে মাসল পুল, মাসল স্ট্রেইন, স্প্রেইন, ক্র্যাম্প বা স্প্যাজম বলা হয়।

কেন পেশিতে টান ধরে

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের ঐচ্ছিক পেশির মাধ্যমেই আমরা দৈনন্দিন নানা কাজ করি। এসব পেশি স্বাভাবিকভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। কিন্তু কখনো কখনো পেশি দীর্ঘ সময় সংকুচিত অবস্থায় থেকে গেলে প্রসারিত হতে পারে না। তখনই পেশিতে টান ধরে।

যারা দীর্ঘদিন ধরে কোনো ক্রনিক রোগে ভুগছেন বা আঘাতজনিত সমস্যায় আক্রান্ত, তাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এছাড়া পেশিতে ল্যাকটিক অ্যাসিড অতিরিক্ত জমে গেলে পেশি শক্ত হয়ে যায় এবং স্বাভাবিকভাবে শিথিল হতে পারে না।

শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশই পানি। শরীরে তরলের ভারসাম্য ঠিক থাকলে পেশিগুলোও স্বাভাবিকভাবে কাজ করে। কিন্তু পানিশূন্যতা দেখা দিলে পেশিতে অস্বাভাবিক সংকোচন শুরু হয়। গর্ভাবস্থায় অনেক নারীর শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের ঘাটতি দেখা দেয়, যার ফলেও বারবার পেশিতে টান ধরতে পারে।

টান ধরলে কী করবেন

বিশেষজ্ঞরা জানান, পেশিতে হঠাৎ টান ধরলে প্রথমেই আক্রান্ত স্থানে হাত দিয়ে হালকা ম্যাসাজ করতে হবে। প্রয়োজনে কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে ঠান্ডা সেঁক দেওয়া যেতে পারে।

প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাও জরুরি। বসা বা শোয়া অবস্থায় পা সোজা রেখে পায়ের আঙুল নিজের দিকে টেনে আনলে ব্যথা কিছুটা কমতে পারে। ব্যথা কমে এলে আক্রান্ত স্থানে কুসুম গরম পানি বা গরম সেঁক দেওয়া উপকারী।

ব্যায়াম করার ক্ষেত্রে হঠাৎ করে মাত্রা না বাড়িয়ে ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বা বসে কাজ করলে মাঝেমধ্যে অবস্থান পরিবর্তন করাও প্রয়োজন।

অনেক সময় টান ধরা পেশিতে গিঁট বা চাকা বেঁধে থাকার মতো অনুভূতি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে টান পড়ার বিপরীত দিকে পা ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করা সহায়ক। আঘাতপ্রাপ্ত অংশ বালিশের ওপর কিছুটা উঁচু করে রাখলে আরাম মিলতে পারে।

প্রয়োজনে রক্তে ইলেক্ট্রোলাইট যেমন পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মাত্রা পরীক্ষা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে ডায়াবেটিস আছে কি না, তা জানতে রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করাও জরুরি।

সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—পেশিতে টান বারবার হলে বা ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।