স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় ওটস এখন বেশ পরিচিত নাম। সকালের নাশতা হোক বা হালকা ডিনার—ডায়েট সচেতন মানুষদের প্রথম পছন্দের মধ্যেই থাকে এই শস্য। ফাইবার, প্রোটিন ও নানা গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণে ভরপুর ওটস নিয়মিত খেলে শরীরে ধীরে ধীরে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায় বলে জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।
হজম শক্তিশালী হয়
ওটসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ফাইবার, বিশেষ করে বিটা-গ্লুকান। এটি হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ওটস খেলে পেট পরিষ্কার থাকে ও বদহজমের সমস্যা কমে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
ওটস খেলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা অনুভূতি থাকে। ফলে বারবার খিদে পায় না এবং অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে। এ কারণে ওজন কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওটস কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো থাকে
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওটসে থাকা বিটা-গ্লুকান রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমাতে সাহায্য করে। ফলে নিয়মিত ওটস খেলে হৃদ্রোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমতে পারে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে
ওটস ধীরে হজম হয়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় না। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পরিমিত পরিমাণে ওটস একটি নিরাপদ ও উপকারী খাবার হিসেবে বিবেচিত।
শক্তি ও মনোযোগ বাড়ে
ওটসে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়। ফলে সারাদিন কর্মক্ষমতা বজায় থাকে এবং মনোযোগও তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে।
ত্বক ও চুলের উপকার
ওটসে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, জিঙ্ক ও বি-ভিটামিন ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী। নিয়মিত খেলে ত্বক উজ্জ্বল থাকে এবং চুলের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।
কীভাবে খাবেন
ওটস সেদ্ধ করে, দুধ বা দইয়ের সঙ্গে, ফল ও বাদাম মিশিয়ে কিংবা নোনতা সবজি দিয়েও খাওয়া যায়। তবে অতিরিক্ত চিনি বা প্রক্রিয়াজাত উপকরণ এড়িয়ে চলাই ভালো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওটস কোনো ম্যাজিক খাবার নয়। তবে নিয়মিত ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি খেলে শরীর ধীরে ধীরে সুস্থ ও সতেজ থাকতে সাহায্য করে।

