দীর্ঘ সময় ধরে বেশি ভলিউমে ইয়ারবাড ব্যবহার করলে কানের ভেতরের অত্যন্ত সংবেদনশীল শ্রবণ কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে ধীরে ধীরে স্থায়ী শ্রবণশক্তি হ্রাস পায় এবং টিনিটাসের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমান জীবনে কথা বলা, যাতায়াত, শরীরচর্চা কিংবা ঘুমানোর আগে ফোন ব্যবহার—প্রায় সব ক্ষেত্রেই ইয়ারবাড এখন নিত্যসঙ্গী। তবে কতক্ষণ এবং কত জোরে শব্দ শোনা হচ্ছে, সে বিষয়ে সচেতনতা কম। আধুনিক সময়ে শ্রবণশক্তি নষ্ট হওয়ার বড় কারণগুলোর একটি হয়ে উঠেছে দীর্ঘ সময় ও উচ্চ ভলিউমে ইয়ারবাড ব্যবহার।

সাধারণ স্পিকারের তুলনায় ইয়ারবাড সরাসরি কানের ভেতরে শব্দ পৌঁছে দেয়। এতে দীর্ঘক্ষণ জোরে গান বা কথা শোনার ফলে কানের ভেতরের ‘হেয়ার সেল’ নামে পরিচিত সূক্ষ্ম শ্রবণ কোষ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়। একবার এই কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে না। এর প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ শোনা বা ভিড়ের মধ্যে কথা বুঝতে অসুবিধা দেখা দিতে পারে, যা সময়ের সঙ্গে স্থায়ী শ্রবণ সমস্যায় রূপ নেয়।

শুধু উচ্চ শব্দ নয়, কম ভলিউমেও দীর্ঘক্ষণ ইয়ারবাড ব্যবহারে কানের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। জিম, বিমানের ভেতর বা ব্যস্ত সড়কের শব্দ এড়াতে গিয়ে অনেকেই অজান্তে ভলিউম বাড়িয়ে দেন। এতে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে জোরে শব্দে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক শব্দ কম মনে হতে থাকে, ফলে আরও বেশি ভলিউমে শোনার প্রবণতা তৈরি হয়।

ইয়ারবাডের অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘ সময় একটানা শব্দ শোনার কারণে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। এর ফলে মানসিক চাপ, ক্লান্তি, বিরক্তি ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক সুস্থতার জন্য নীরবতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি সারাক্ষণ শব্দে ডুবে থাকাও ক্ষতিকর।

এ ছাড়া দীর্ঘক্ষণ ইয়ারবাড ব্যবহার করলে কানের ভেতরে তাপ ও আর্দ্রতা জমে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। এতে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস সহজেই জন্মাতে পারে, যা কানে চুলকানি, ময়লা জমা, কান বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা বারবার সংক্রমণের কারণ হতে পারে এবং শ্রবণক্ষমতা আরও দুর্বল করে।

এই ঝুঁকি কমাতে বিশেষজ্ঞরা ‘৬০/৬০ নিয়ম’ মেনে চলার পরামর্শ দেন। অর্থাৎ, একটানা ৬০ মিনিটের বেশি ইয়ারবাড ব্যবহার না করা এবং ভলিউম সর্বোচ্চ মাত্রার ৬০ শতাংশের মধ্যে রাখা। এই সহজ অভ্যাসই কানের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ বলে মনে করেন তারা।