অনেক মানুষই বিভিন্ন ধরনের শব্দের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীল। তবে সব শব্দে সমস্যা হওয়া আর কেবল নির্দিষ্ট কিছু শব্দে তীব্র অস্বস্তি অনুভব করা—এই দুই বিষয় এক নয়। অন্যের খাবার চিবানোর শব্দ, গলা খাঁকারির শব্দ কিংবা শ্বাসপ্রশ্বাসের মতো সাধারণ শব্দে যাঁরা অস্বস্তিতে পড়েন, তাঁদের সমস্যাটির নাম মিসোফোনিয়া।
মিসোফোনিয়া কী
ধরা যাক, ধাতব কোনো বস্তু দিয়ে দাগ টানার সময় যে তীক্ষ্ণ শব্দ হয়, সেটি শুনে কারও অস্বস্তি লাগছে। অথবা কারও কাছে কম্পিউটারের কিবোর্ডের শব্দ, গাড়ির উইন্ডশিল্ডের নড়াচড়া, অন্যের হাঁচি–কাশি, হাত ঘষার শব্দ কিংবা খাবার চিবানোর শব্দ অসহনীয় মনে হচ্ছে। এমন নির্দিষ্ট কিছু সাধারণ শব্দে অস্বস্তি, বিরক্তি বা নেতিবাচক অনুভূতি তৈরি হওয়াকেই বলা হয় মিসোফোনিয়া।
কতটা সাধারণ এই সমস্যা
যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে মিসোফোনিয়ার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। তবে সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের শব্দে সমস্যা হয় না। লক্ষণীয় বিষয় হলো, শব্দটি কত জোরে হচ্ছে—তা এখানে মূল বিষয় নয়; বরং নির্দিষ্ট শব্দটাই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কেন এমন হয়
মিসোফোনিয়া কানের কোনো শারীরিক সমস্যা নয়। এর সঙ্গে মস্তিষ্ক ও মানসিক প্রতিক্রিয়ার সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণ বিরক্তির গণ্ডি পেরিয়ে কারও কারও ক্ষেত্রে এই সমস্যা তীব্র আকার নিতে পারে। শব্দ শুনে কেউ রেগে যেতে পারেন, কারও মেজাজ খারাপ হয়ে যায়, কারও মধ্যে ঘৃণা বা ভয় কাজ করে। এমনকি কারও কারও ক্ষেত্রে আতঙ্ক তৈরি হয় বা ওই পরিবেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগে।
দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব
নির্দিষ্ট শব্দ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে গিয়ে মিসোফোনিয়ায় ভোগা ব্যক্তি সামাজিক পরিস্থিতিতে অস্বস্তিতে পড়তে পারেন। যেমন, যিনি অন্যের খাবার চিবানোর শব্দ সহ্য করতে পারেন না, তিনি বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে বাইরে খেতে বসতে অনীহা বোধ করতে পারেন। অনেক সময় একা বসে খাওয়াই তাঁর কাছে বেশি স্বস্তিকর মনে হয়।
কী বলছে চিকিৎসাবিজ্ঞান
মিসোফোনিয়াকে সাধারণভাবে কোনো রোগ হিসেবে ধরা হয় না। তবে যদি এই সমস্যার কারণে সামাজিক জীবন ব্যাহত হয় বা স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ে, সে ক্ষেত্রে মনোবিদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সাইকোথেরাপি সহায়ক হতে পারে এবং জীবনের মান উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
