সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পদায়ন না হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো প্রার্থী। স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট এবং শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও নিয়োগ কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা।

বুধবার (১০ জুন) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের পক্ষ থেকে দ্রুত পদায়ন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— দ্রুত বিদ্যালয়ে পদায়ন নিশ্চিত করা, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) রিপোর্টসংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান এবং সম্পূর্ণ নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাসহ একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করা।

লিখিত বক্তব্যে প্রার্থীরা জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। পরবর্তী সময়ে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে ডোপ টেস্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সনদ যাচাইয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী এরপরই পদায়ন ও যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও চার মাস ধরে তা স্থবির হয়ে আছে।

প্রার্থীদের অভিযোগ, চাকরি নিশ্চিত হয়েছে ধরে নিয়ে অনেকেই পূর্বের বেসরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। কেউ কেউ অন্য প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে বর্তমানে তারা আয়বিহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া এক প্রার্থী বলেন, “আমাদের প্রধান দাবি হলো দ্রুত বিদ্যালয়ে পদায়ন নিশ্চিত করা। এরপর ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণকালীন গর্ভবতী নারী শিক্ষক কিংবা গুরুতর অসুস্থদের জন্য ছুটি ও প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন।”

পারিবারিক ও সামাজিক চাপের কথাও তুলে ধরেন ভুক্তভোগীরা। জামালপুর থেকে আসা এক নির্বাচিত প্রার্থী বলেন, “বাবা অবসরে গেছেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আমি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি হওয়ায় অন্য একটি ভালো চাকরির সুযোগ ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। এখন চার মাস ধরে নিয়োগ আটকে থাকায় ঋণ করে সংসার চালাতে হচ্ছে। এমনকি চাকরি না থাকায় গত মাসে আমার বিয়েও ভেঙে গেছে।”

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও পিটিআই (প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট) থেকে ১০ মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই চূড়ান্ত পদায়ন করা হবে। এই নতুন নীতির কারণেই নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে নির্বাচিত প্রার্থীরা শহীদ জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন।