বাংলাদেশি রান্নাঘরে কলা সবচেয়ে সহজলভ্য এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় ফল। ভাতের পাশে, নাস্তায়, সন্ধ্যার স্ন্যাকে—কলা যেন সর্বত্রই রাজত্ব করে। কিন্তু ওজন কমানোর সময় কলা নিয়ে অনেকের মধ্যেই দ্বিধা।
কেউ বলেন, এতে চিনির পরিমাণ বেশি তাই ডায়েটের জন্য অনুপযোগী; আবার কেউ বলেন, প্রাকৃতিক শক্তির উৎস হিসেবে কলা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
পুষ্টিবিদদের মতে, কলা খাওয়া ভালো না খারাপ—এর উত্তর নির্ভর করে কলার পাকাভাবের ওপর। সবুজ কাঁচা কলা এবং হলুদ পাকা কলা শরীরে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে কাজ করে।
সবুজ কলা বনাম হলুদ কলা: পার্থক্য কী?
সবুজ কলায় থাকে প্রচুর রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ, যা আঁশের মতো কাজ করে। এটি ধীরে হজম হয়, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে দেয় না। ফলে ওজন কমানোর জন্য এটি আদর্শ।
অন্যদিকে, হলুদ পাকা কলায় রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ কমে যায় এবং প্রাকৃতিক চিনি (গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, সুক্রোজ) বেড়ে যায়। এটি দ্রুত শক্তি দেয়, সহজে হজম হয়, কিন্তু রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়াতে পারে।
প্রতি মাঝারি কলার পুষ্টিগত তুলনা (আনুমানিক)
- ক্যালরি: পাকা (হলুদ) – ১০৫ কিলোক্যালরি; কাঁচা (সবুজ) – ৮৯ কিলোক্যালরি
- কার্বোহাইড্রেট: পাকা – ২৭ গ্রাম; কাঁচা – ২২ গ্রাম
- চিনি: পাকা – ১৪ গ্রাম; কাঁচা – ৬ গ্রাম
- আঁশ: পাকা – ৩ গ্রাম; কাঁচা – ৪ গ্রাম
- রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ: পাকা – কম; কাঁচা – বেশি
- পটাশিয়াম: পাকা – ৪২২ মিগ্রা; কাঁচা – ৪৬৮ মিগ্রা
গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) ও ওজন নিয়ন্ত্রণ
কাঁচা কলা: GI ৩০–৫০ → ধীরে শক্তি দেয়, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
পাকা কলা: GI ৫১–৬০ → দ্রুত শক্তি দেয়, কিন্তু ক্ষুধা তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে পারে
ওজন কমাতে কাঁচা কলার সুবিধা
- দীর্ঘক্ষণ তৃপ্তি রাখে
- রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখে
- গাট হেলথ উন্নত করে (প্রিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে)
- কম ক্যালরি
ওজন কমাতে পাকা কলার সুবিধা
- ব্যায়ামের আগে/পরে দ্রুত শক্তি জোগায়
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ (প্রদাহ কমায়)
- মুড ভালো রাখে (ট্রিপটোফ্যানের কারণে)
- সহজ হজম
ওজন কমাতে কোন কলা খাবেন?
- ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ ও ক্যালরি কমানোর জন্য → কাঁচা কলা
- দ্রুত শক্তি বা ব্যায়ামের সাপোর্টের জন্য → পাকা কলা
পুষ্টিবিদরা বলছেন, একটিকে পুরোপুরি বাদ না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী দুটোই ডায়েটে রাখা ভালো।
দিনে কতটি কলা নিরাপদ?
- সাধারণ সক্রিয় মানুষ: ১-২টি
- ওজন কমানোর সময়: ১টি ছোট কলা (সঙ্গে প্রোটিন/ফাইবার যোগ করুন)
- ডায়াবেটিস বা কিডনি সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সেরা সময়
- সকালে: পাকা কলা + দই/ওটস
- ব্যায়ামের আগে: পাকা কলা
- ব্যায়ামের পর: কলা + প্রোটিন
- রাতে: কাঁচা কলা বা ছোট পাকা কলা
কলা যেন একমাত্র ফল না হয়—বৈচিত্র্যপূর্ণ ডায়েটই স্বাস্থ্যের চাবিকাঠি। ওজন নিয়ন্ত্রণে কলাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করুন, সুস্থ থাকুন!
