দেশজুড়ে তাপমাত্রা ক্রমেই কমছে। শীতের এই সময়ে শরীর ও ত্বকের বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। সামান্য অবহেলাতেই ত্বকের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। শীতকালে অনেকেরই একটি সাধারণ ভুল হলো—পানি কম পান করা।
পানিশূন্যতার কারণে শরীর ও ত্বক ধীরে ধীরে প্রাণহীন হয়ে ওঠে। তাই তৃষ্ণা না লাগলেও প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পর্যাপ্ত পানি ত্বকের কোষগুলোকে ভেতর থেকে আর্দ্র ও শক্তিশালী রাখে, ফলে কোষগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে এবং ত্বক দেখায় কোমল, উজ্জ্বল ও মসৃণ।
পানি কম পান করলে ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারায়। এর ফলে ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক, নিস্তেজ ও প্রাণহীন। শীতের শুষ্ক বাতাসের সঙ্গে পানিশূন্যতা যুক্ত হলে ত্বকের সমস্যা আরও বেড়ে যায়। পানি স্বল্পতায় ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়, যার কারণে অকালেই সূক্ষ্ম রেখা ও বলিরেখা দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন– শীতের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে জয়েন্ট ব্যথা?
শুধু তাই নয়, পানি শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে। এতে ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল থাকে। পানি ত্বকের বাইরের স্তর এপিডার্মিসকে আর্দ্র রাখে, যা ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্কতা ও নিষ্প্রাণতা থেকে রক্ষা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বককে সুন্দর ও তারুণ্যময় রাখতে শীতকালেও শরীরকে পানিশূন্য হতে দেওয়া যাবে না। ঠাণ্ডার কারণে যদি ঠান্ডা পানি পান করতে অস্বস্তি হয়, তাহলে হালকা গরম পানি পান করা যেতে পারে।
শরীর আর্দ্র রাখতে দিনে অন্তত ৭ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ডাবের পানি, ফলের রস, স্যুপ ও ভেষজ চা পান করলেও শরীর ও ত্বক উপকার পাবে। নিয়মিত এসব পানীয় গ্রহণ করলে শীতকালেও ত্বক থাকবে সুস্থ, উজ্জ্বল ও সতেজ।
