আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের ‘জান্নাতের প্রলোভন’ দেখানোর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একাধিক নেতার বিরুদ্ধে উঠে আসছে। এ ধরনের বক্তব্যের কারণে দলটির নেতারা বারবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসছেন এবং সমালোচনার মুখে পড়ছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে একটি সমাবেশে জামায়াতপন্থি আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরকে সাধারণ ভোটারদের জান্নাতের প্রলোভন দিতে শোনা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির দাবি করেছেন, ভিডিওটি সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।

এ নিয়ে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যারা এই “কার্ট, কার্ট” ভিডিওটি দেখে অযথা মন্তব্য করছেন, তারা আল্লাহর ওয়াস্তে অনুগ্রহ করে সম্পূর্ণ ভিডিওটি দেখার পর আমার সম্পর্কে মন্তব্য করবেন।’

জামায়াত নেতাদের এমন বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিএনপি নেতারাও এ বিষয়ে সরব হয়েছেন। এ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কন্যা শামারুহ মির্জা কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি খুবই নগণ্য মানুষ, ইসলামকে বোঝার চেষ্টা করি—আল্লাহ জানেন। তবে জামায়াতে ইসলামের এই নেতার বক্তব্য যদি ইসলামবিরোধী না হয়, তাহলে আমার আর কিছু বলার নেই। “জান্নাতে যেতে হলে জামাতে ইসলামীর সঙ্গে থাকতে হবে”—আল্লাহ মাফ করুন।’

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ভোটার আকৃষ্ট করার অভিযোগ উঠছে। যদিও মাসখানেক আগে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এক সমাবেশে তিনি বলেছিলেন, ‘জামায়াত কখনো মানুষের কাছে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে না। মহান আল্লাহ মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য পবিত্র কুরআনুল কারিম নাজিল করেছেন। কুরআনে কী করা উচিত আর কী বর্জন করা উচিত—তা বলা হয়েছে। আমরা শুধু সেই কথাগুলোই মানুষের সামনে তুলে ধরি। বিরোধীরা কুরআন না পড়া ও না বোঝার কারণেই এমন অভিযোগ করে থাকে।’

এর আগেও ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির দলীয় প্রতীকের সঙ্গে ধর্মীয় বিষয় যুক্ত করে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘পৃথিবীতে তো বটেই, আসমান-জমিনেও কারও শক্তি নেই আমাদের এই মিজান (দাঁড়িপাল্লা) থামানোর। হাশরের ময়দানেও এই মিজান থাকবে। সেখানে ধানের শীষ, নৌকা বা লাঙ্গল থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি প্রতীক নিয়ে কাজ করি, যা দুনিয়াতেও থাকবে, আখিরাতেও থাকবে। ক্ষমতার মালিক মালিকুল মুলক যদি মনে করেন ক্ষমতা জামায়াতে ইসলামীর হাতেই যাবে, তাহলে তা অবশ্যই যাবে।’