বর্তমান সময়ের ডিজিটাল জীবনে ধীর ইন্টারনেট বা দুর্বল ওয়াই-ফাই সিগন্যাল বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিডিও কল হঠাৎ কেটে যাওয়া, অনলাইন মিটিংয়ে বিঘ্ন কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আপলোডে দেরি—এসব সমস্যায় প্রতিদিনই পড়ছেন অনেকেই।
তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সহজ কৌশল ও সঠিক সরঞ্জাম ব্যবহার করলে ঘরের ইন্টারনেট সংযোগকে আরও দ্রুত, স্থিতিশীল ও দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব।
প্রথমেই ওয়াই-ফাইয়ের সমস্যা খুঁজে বের করার আগে নিশ্চিত হতে হবে মূল ইন্টারনেট সংযোগ ঠিক আছে কি না। ল্যাপটপ বা কম্পিউটার সরাসরি রাউটারের সঙ্গে ইথারনেট ক্যাবল দিয়ে যুক্ত করে স্পিড টেস্ট করা উচিত। সেখানেও গতি কম হলে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, রাউটারের ফার্মওয়্যার নিয়মিত আপডেট না করলে গতি ও নিরাপত্তা দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাউটারের অ্যাডমিন প্যানেলে ঢুকে সর্বশেষ আপডেট ইনস্টল করলে পারফরম্যান্স উন্নত হয়।
রাউটার কোথায় রাখা হচ্ছে সেটিও ওয়াই-ফাই সিগন্যালের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। বাড়ির কেন্দ্রীয় ও উঁচু স্থানে রাউটার রাখলে সংকেত ভালোভাবে ছড়ায়। দেয়াল, ধাতব বস্তু কিংবা অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডুয়াল-ব্যান্ড রাউটার ব্যবহারকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তন করতে পারেন। 5GHz ব্যান্ড দ্রুত গতি দিলেও এর কভারেজ তুলনামূলক কম, অন্যদিকে 2.4GHz ব্যান্ড দূরত্বে ভালো কাজ করে।
একই এলাকায় অনেক রাউটার একই চ্যানেল ব্যবহার করলে ইন্টারনেট ধীর হয়ে যায়। কম ব্যস্ত চ্যানেল নির্বাচন করলে ওয়াই-ফাই সংযোগ আরও স্থিতিশীল থাকে।
নিরাপত্তার দিক থেকেও সতর্ক থাকা জরুরি। দুর্বল পাসওয়ার্ড বা ওপেন নেটওয়ার্ক থাকলে অপরিচিত ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে। তাই শক্তিশালী পাসওয়ার্ড এবং WPA2 বা WPA3 সিকিউরিটি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া কোয়ালিটি অব সার্ভিস (QoS) সেটিং চালু করলে ভিডিও কল বা অনলাইন মিটিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপকে অগ্রাধিকার দেওয়া যায়, ফলে অন্য কাজের কারণে সংযোগ ব্যাহত হয় না।
প্রয়োজনে হাই-গেইন বা এক্সটার্নাল অ্যান্টেনা ব্যবহার করে সিগন্যালের শক্তি বাড়ানো যেতে পারে। পুরনো রাউটার হলে তা পরিবর্তন করাও কার্যকর সমাধান। ওয়াই-ফাই ৬ বা ওয়াই-ফাই ৬ই রাউটার দ্রুত গতি ও বিস্তৃত কভারেজ দিতে সক্ষম।
বড় বাড়ি বা বেশি দেয়াল থাকলে রেঞ্জ এক্সটেন্ডার কিংবা মেশ নেটওয়ার্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। এতে পুরো বাড়িতে একটানা ওয়াই-ফাই কভারেজ পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক কৌশল ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ঘরের ইন্টারনেট সমস্যা অনেকটাই দূর করা সম্ভব। এতে অনলাইন কাজ, মিটিং ও বিনোদন সবই হবে আরও দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত।
